শাহজাদপুর কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় তৈরি হচ্ছে মামলার জট

২০১৩ সালে সিরাজজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারি জজ আদালত ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত পুনঃস্থাপন করে সরকার। কার্যক্রম চালু করে সরকার।পরবর্তীতে ২০১৭ সালে এখানে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রম চালু হয়। শাহজাদপুরে যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিনিয়র সহকারি জজ আদালত ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সমন্বয়ে শাহজাদপুর চৌকি আদালত পরিচালিত হয়ে আসছে। শাহজাদপুরে চৌকি আদালত চালু হওয়ায় উপকৃত হচ্ছে এ অঞ্চলের বিচার প্রার্থীরা বিশেষ করে শাহজাদপুরের চরাঞ্চলের জনগন।

কিন্তু শাহজাদপুর চৌকি আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দীর্ঘদিন না থাকায় তৈরি হচ্ছে ফৌজদারী মামলার জট।

শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আবু খান শাহিন কনক পদন্নোতি পেয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন।শাহজাদপুরে তিনি সর্বশেষ গত বছরের ১৫ নভেম্বরে আদালতের এজলাসে বসেছিলেন। ১৫ নভেম্বরের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবতঃ ওই আদালতে কোন বিচারক না থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬০/৭০ টি ফৌজদারী মামলার তারিখ থাকলেও সে অনুযায়ী শুনানী করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে মামলার জট। জানা গেছে, শাহজাদপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৩ টি মামলা। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যানিস্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলামের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিলেও তিনি তার আদালত ছেড়ে শাহজাদপুরে এসে মামলার শুনানি করা সম্ভব নয় বিধায় মামলার শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট নঠিপত্র বাদি-বিবাদি ও অফিসের কর্মীচারী-কর্মকর্তাদের যেতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের ওই আদালতে। এতে করে নানান বিলম্বনা সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন করে মামলার দিনান্তর করা ছাড়া অন্যকোন অগ্রগতি হচ্ছে ফৌজদারী ওই মামলাগুলিতে। নতুন কোন মামলা করার প্রয়োজন হলে বাদী ও আইনজীবীদের যেতে হয় জেলা শহর সিরাজগঞ্জের কোর্টে। এ অবস্থায় স্থানীয় ওই আদালতে কর্মরত আইনজীবি, আইনজীবি সহকারি ও ভূক্তভোগী, বাদী-বিবাদী দ্রততম সময়ের মধ্যে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে শাহজাদপুর আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. আনোয়ার হোসেন ও এ্যাড. মতিয়ার রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, সরকার বাহাদুর যেখানে মামলার জট ও ন্যায় বিচার পাওয়ার স্বার্থে দূঃস্থ বা অর্থহীন, অসহায় মানুষদের আর্থিক ও আইনী সুবিধা দিয়ে আসছে। সেখানে এই আদালতে বিচারক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে সরকারের অনুরূপ উচ্চ আকাঙ্খা পূরণ হবে না। তাই আমরা চাই খুব দ্রততম সময়ের মধ্যে একজন নতুন বিচারক এই আদালতে নিয়োজিত হয়ে আবারও প্রাণ ফিরে আসুক শাহজাদপুর চৌকি আদালতে।