ত্রাণ বিতরণ জরুরী


শাহজাদপুরে ৯ হাজার পানিবন্দী পরিবারে দুর্ভোগ চরমে

গত ২৪ ঘন্টায় শাহজাদপুরে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও পানিবন্দী ৯ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ বেড়েছে। সেইসাথে গত ১ সপ্তাহে উপজেলার জালালপুর ও সোনাতনী ইউনিয়নের ৬ গ্রামে যমুনার ভাঙ্গণে প্রায় ৫’শ ঘরবাড়ি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাট, আমন ধানসহ ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, এসব স্থানে বানের পানিতে বেশকিছু নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদীপশু নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া কৈজুরি, জালালপুর, খুকনি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের প্রায় ৩’শ পরিবার গবাদীপশুসহ সহায়-সম্বল নিয়ে যমুনা তীরবর্তী বাঁধসহ উচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে। বন্যাদুর্গত এসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ জরুরী হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, উজানের ঢলে গত কয়েকদিনে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে শাহজাদপুর পৌর এলাকাসহ ১৩ ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শাহজাদপুর পৌর এলাকার রূপপুর উরির চর ও শান্তিপুর গ্রামে শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। এছাড়া যমুনা নদী তীরবর্তী জালালপুর ইউনিয়নের পাকুরতলা, জালালপুর, ঘাটাবাড়ি, বাঐখোলা, কুঠিপাড়া, ভেকা ও চরমনপুর এ ৭ গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পরিবার, কৈজুরী ইউনিয়নের ঠুটিয়া, টেকোপ্রাচীল, ভাটদিঘুলিয়া, জোতপাড়া ও জগতলা এ ৫ গ্রামের ৫’শ পরিবার ও যমুনার চরের সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, সোনাতনী, ছোট চামতারা, বড় চামতারা ও বানতিয়ার এলাকার প্রায় ৬’শ পরিবারসহ উপজেলার রূপবাটি, পোতাজিয়া, গালা, নরিনা, কায়েমপুরসহ ১৩ ইউনিয়নে প্রায় ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ-দুর্গতি পোহাচ্ছে। এছাড়া, গত ১ সপ্তাহে জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, পাকুড়তলা, ভেকা ও সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, সোনাতনী, ছোট চামতারা গ্রামের প্রায় ৫’শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এসব এলাকায় কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ইতিমধ্যেই ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে মিটিং করে ত্রাণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’