শাহজাদপুরে ১ হাজার ৮০ লিটার ভেজাল দুধ ধ্বংস

শামছুর রহমান শিশির ও রাজীব রাসেল : গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের মাওলানা সাইফুদ্দিন এহিয়া ডিগ্রি কলেজের বিপরীত পার্শ্বে অবস্থিত মৃত আফছারের বাড়ির সামনে থেকে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ২৭ টি ক্যানভর্তি ১ হাজার ৮০ লিটার ভেজাল দুধ ও প্রায় ১ কেজি (সোডিয়াম বাই কার্ব ও নীলাভ কেমিকেল ) কেমিকেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ভেজাল দুধের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক জুলহাস জানান, পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত পৌর এলাকার বাড়াবিল মহল্লার মৃত আবু বক্কারের দুই ছেলে আতাউর ও মোতাহারকে ভ্রাম্যমান আদালতে পুলিশ হাজির করলে ভ্রাম্যমান আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ও শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজিব ২০০৯ সালের ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার আইনের ৪২ ধারায় ওই দুই অসাধু দুগ্ধ ব্যবসায়ী, সহোদর আতাউর ও মোতাহার প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। সেইসাথে উদ্ধারকৃত ২৭টি ক্যানভর্তি দুধ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ধ্বংশ করা হয়। জরিমানার ২ লাখ টাকা আদায়ের পর এদিন বেলা ১১ টার দিকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। এলাকাবাসী জানায়, আতাউর, মোতাহার ও পোরজনা ঘোষপাড়া মহল্লার জনৈক কিশোর ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দুধের সাথে পানি ও ক্ষতিকর সোডিয়াম-বাই-কার্ব ও নীলাভ কেমিকেল মিশ্রণ করে সড়কপথে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরবরাহ করে আসছিলো।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, ‘কেমিকেল মিশ্রিত ভেজাল দুধ পান করে শিশুসহ আমজনতার কিডনি, লিভারের মারাত্বক ক্ষতিসাধনসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হবার ঝূঁকি অত্যাধিক বেশী থাকে। সেইসাথে ওই বিষাক্ত দুধপানে শিশুদের জীবন ও ভবিষ্যত বিপন্ন হতে পারে।’