১৫ হাজার মানুষের দূর্ভোগ লাঘব


শাহজাদপুরে ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ

দৈনিক দেশ রূপান্তর সহ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পুঠিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের হুরাসাগর খালের উপর ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ মাস আগে নির্মিত ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কংক্রিট সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে। কয়েকটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নজরে আসামাত্র তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই দিনই জমির মাপ জরিপ সম্পন্ন করে লাশ নিশান দিয়ে সড়ক নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে দেন। সোমবার সকালে থেকে ওই স্থানে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুপুর পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক মাটিকাটার কাজ করে সড়কটি সৃশ্যমান করে তোলেন। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসি বাঁধভাঙ্গা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন।  এ সড়ক দিয়ে তখনই যাতায়াত করা গেলেও পুরোপুরি কাজ শেষ হতে আরও কয়েকদিন লাগবে।

গত ২০১৯-২০ইং অর্থ বছরে শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি বিভাগ ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটির নির্মাণ কাজ ৬ মাস আগে শেষ করে। এ ছাড়া দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ১ মাস আগে সম্পন্ন করে। বাঁধার মুখে উত্তর পাশের ২০০ গজ সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ স্থগিত হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার প্রায় ১২টি গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে দূর্ভোগ শুরু হয়। গ্রাম গুলি হল,পুঠিয়া উত্তরপাড়া,পুঠিয়া দক্ষিণপাড়া,বাঐখোলা,ক্ষিদ্র পুঠিয়া,ডায়া,ডায়া নতুনপাড়া,কাকুরিয়া উত্তরপাড়া,কাদাই বিলপাড়া,ধূলাউড়ি মল্লাপাড়া,বড় মহারাজপুর,ফরিদপাঙ্গাসী ও বাজিয়ারপাড়া। জমির মালিকানা দাবী করে ওই গ্রামের মো:আজিমুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ওই সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমির মূল্য দাবী করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয়। ফলে সেতুটি এলাকাবাসি সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে যাতায়াতে দূর্ভোগে পরে। মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে এ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের,শাহীন সরকার,আব্দুল বাছেদ,স্বপন মির্জা বলেন,আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাটি দূর হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি। গ্রাম জুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
এ বিষয়ে ওই সেতু নির্মাণ কাজের সাব-ঠিকাদার আব্দুস সোবাহান ডাবলু বলেন,কাজটি সুষ্ঠ্যুভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমি খুবই খুশি হয়েছি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী আহমেদ রফিক বলেন,বিষয়টি নজরে আসা মাত্র শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শামসুজ্জোহা ও শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ হোসেন মহোদয়কে সাথে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এরপর মাপজরিপ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জমি লালপতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে দেই। ঠিকাদার দ্রুত শ্রমিক লাগিয়ে সড়কটি সৃশ্যমান করে তোলে। ফলে এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের সমস্যাটি লাঘব হয়।