ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সুবিচারে এলাকাবাসী পুলিশের উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে


শাহজাদপুরে ১ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা

শামছুর রহমান শিশির, সোমবার, ২১ জানুয়ারি- ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ : এবার দিনে দুপুরে ৩৫ বছর বয়সী ছলিম নামের এক লম্পট কর্তৃক ১ম শ্রেণি পড়–য়া স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে । ভিকটিমের পরিবার স্থানীয় গ্রাম প্রধান ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটির সুবিচার দাবি করেও কোন প্রতিকার পাননি। চাঞ্চল্যকর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই লম্পট ছলিম বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছে এবং ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের যুগনীদহ মহল্লায়।
এলাকাবাসী, ভিকটিমের স্বজনেরা জানায়, গত ৯ জানুয়ারি বেলা ৩ টার দিকে যুগনীদহ মহল্লার মসজিদ সংলগ্ন স্থান দিয়ে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ভাগ্নি ও এলাহীর মেয়ে ১ম শ্রেণি পড়–য়া স্কুলছাত্রী (৮) বাড়ি ফিরছিলো। এ সময় ওই স্থানে কোন লোকজন না থাকার সুযোগে একই গ্রামের আবুল প্রামানিকের ছেলে গ্যাস বিক্রেতা লম্পট সলিম (৩৫) স্কুলছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানী করে ও জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে স্কুলছাত্রীর আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে লম্পট সলিম স্কুলছাত্রীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। স্কুলছাত্রী শিশুটি ও অপর স্কুলছাত্রী মিজানুর রহমানের মেয়ে মিনতি (৯) এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে, ‘ঘটনার আগের দিন ৮ জানুয়ারি বিকেলে ভেড়াকে ঘাস খাওয়াতে তাদের বাড়ি সংলগ্ন ফসলের মাঠে গেলে সলিম ১ম শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রী শিশুকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তারা পালিয়ে বাড়ি ফেরে।’ স্কুলছাত্রীর স্বজনেরা জানায়,‘গ্রাম্য প্রধানদের নিকট গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করলে ১৫ জানুয়ারি নরিনা ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে গ্রাম প্রধানদের নিয়ে একটি শালিষ বৈঠক বসে। কিন্তু লম্পট ছলিম তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিচারে অনুপস্থিত থাকলে এলাকার প্রধানবর্গ ও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল ঘটনাটি সত্য মর্মে লম্পটের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়ন পত্র ভিকটিম পরিবারকে প্রদান করেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, ‘গ্রাম্য শালিষ বৈঠকে ছলিম উপস্থিত না হওয়ায় ছলিমকে দোষী মনে করে গ্রামের প্রধানবর্গ ও তার স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যায়ন পত্র ভিকটিম পরিবারের সদস্যদের দিয়েছেন। ইতিপূর্বেও সলিম অপর একটি মেয়ের শ্লীলতাহানী করলে গ্রাম্য শালিষে তাকে অভিযুক্ত করে জুতাপেটা করা হয়েছিলো।’
অপরদিকে, এ বিষয়ে লম্পট ছলিমের মতামত জানতে পরপর ২ দিন সংবাদকর্মীরা তার বাড়ি গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তার সাথে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করলে ‘যা হয় হবে’ বলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসতে অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবক মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সেইসাথে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সুবিচারে এলাকাবাসী পুলিশের উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।