শাহজাদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানো স্ত্রী প্রতিবন্ধী ২ ছেলে নিয়ে বিপাকে

‘একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’ ঠিক এমনটাই বাস্তবায়িত হলো শাহজাদপুরের অসহায় একটি পরিবারের উপর। শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিসিক রোড সংলগ্ন শক্তিপুর মহল্লার অটল দাস (৩০) নামে এক রিকশাচালককে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক পৃষ্ট করে রেখে যায়। তার মৃত্যুতে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ২ টি ছেলে সন্তান ও তার স্ত্রী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেনু দাস জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ৭ টা নাগাত আমার স্বামী অটল দাস রিকশা চালিয়ে পরিবারের জন্য বাজার করে নিয়ে আসার সময় বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুরের হালুয়াঘাটি নামক স্থানে তাকে অজ্ঞাত বাস/ট্রাক তাকে পৃষ্ট করে চলে যায়। কোন ঘাতক এ কাজটি করলো আমরা জানি না। আমার ২ টি ছেলে লাল (১৩) ও উদ্দোব দাস (১০) অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এখন আমি কি করে এই সংসার চালাবো। আমার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছে। আমার স্বামী অন্যের বাড়ীতে থাকে। বাড়ীর মালিক বুদ্ধুবালা দাস জানান, আমি ছোটবেলা থেকে অটলকে নিজের সন্তানের মত করে মানুষ করেছি। আমার ছেলে সন্তান না থাকায় অটলই ছিল আমার একমাত্র সন্তান। আটলের বয়স যখন ৬ মাস উপজেলার নরিনা গ্রাম থেকে তখন আমি তাকে দত্তক এনেছিলাম। ওর বাবা-মা কে সেটাও আমার এখন মনে নাই। ঘাতক পরিবহন তার প্রাণ কেড়ে নেয়ায় সে সন্তানটাও আমি হারালাম। এখন আমি কি করবো। কে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দায়ভার বহন করবে। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি আনন্দ কুমার দাস জানান, অটল দাস নিহত হওয়ায় আমরা তার শ্রাদ্ধ করার জন্য মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলছি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনয় কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার সংবাদ শোনার পর আমরা তার পরিবারকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এই পরিবারটা একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। এই পরিবারের দিকে তাকালে অনেকেই তাদের দৃশ্য দেখে তারা যেন শান্তনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলে। কে করবে এই পরিবারকে তাদের জীবন-জীবিকার সহযোগিতা।