শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস জানান, ' এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে থাকলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগতপূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। '


শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার প্রত্যন্তাঞ্চলে এক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া স্কুলছাত্রীকে বখাটের দেয়া বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় দিনেদুপুরে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও পাঠ্যবই ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে । পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ওই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে পার্শ্ববর্তী ২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও প্রতাপশালী সমাজপতিদের মধ্যে ১৭ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত গ্রাম্য শালিশ বৈঠকের রায়বোর্ড কমিটি বখাটের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করে । স্কুলছাত্রীর পিতা এ ঘটনার সুবিচার সংশ্লিষ্ট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট দাবী করলে স্কুল কর্তৃপক্ষের গ্রাম্য সালিশের ওই আয়োজন ও আদায়কৃত অর্থ স্কুলের উন্নয়নে খরচ করার ব্যাতিক্রমি সিদ্ধান্তও সালিশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিনেদুপুরে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানী ও গতকাল শনিবার সালিশ বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্তের অমানবিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী গ্রামে । এ ঘটনায় ওই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ণরত প্রায় ৪’শ ছাত্রীর অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন স্তরের মানবাধিকার কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যক্কারজনক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবীও তারা জানিয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের খাস সাতবাড়ীয়া নুরুন্নাহার সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণি পড়ুয়া জনৈক স্কুলছাত্রী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাতবাড়ীয়া গ্রামের দুলালের ছেলে বখাটে ও লম্পট হাফিজুর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি স্কুলছাত্রী প্রত্যাখান করলে বখাটে বর্তৃক জোরপূর্বক তার শ্লীলতাহানী ও পাঠ্যবই ছিঁড়ে ফেলা হয়। বাড়ি ফিরে স্কুলছাত্রী ঘটনাটি তার বাবাকে জানালে তার বাবা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের কাছে সুবিচার দাবী করেন। ঘটনাটি শুনে প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান স্কুলছাত্রীর বাবাকে স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। লিখিত অভিযোগ পাবার পর প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান ব্যাতিক্রমী ওই গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নিয়েছেন। অনুষ্ঠিত সালিশে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও গ্রাম্য মাতবর খাস সাতবাড়ীয়া মহল্লার গ্রাম প্রধান সৈয়দ আলী, খাস সাতবাড়ীয়া উত্তরপাড়া মহল্লার আব্দুল খালেক, কুঠি সাতবাড়ীয়া মহল্লার সাবেক ইউপি মেম্বর রাজা, মহিলা ইউপি মেম্বর ছালমা, সাবেক ইউপি মেম্বর ইউসুবসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বখাটে হাফিজুরকে দোষী সাভাস্ত করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় এবং তাকে ৫০ বার জুতাপেটা করার রায় প্রদান করেন। ওই রায়ের বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা-মা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাগরে জানাশোনা লোক, ট্যাকা, নেতা, কুনুডাই নাই। আমাগরে আবার বিচ্যার! আল্লাই বিচ্যার করইবে!’
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘পার্শ্ববর্তী ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ, হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ, সকল ইউপি সদস্য, সকল অভিভাবকবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, এলাকাবাসি ও খাস সাতবাড়ীয়া নুরুন্নাহার সামাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, পরিচালনা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট রায়বোর্ড গঠন করা হয়েছিলো। সর্বসম্মতিক্রমে তারা এ রায় দিয়েছেন। জরিমানার অর্থ আদায় হয়েছে। গৃহিত সিদ্ধান্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আজ রোববার জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
অপরদিকে, এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে থাকলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগতপূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বখাটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিচারের নামে প্রহসনের ঘটনাও খতিয়ে দেখার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী।