শাহজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যার মামলার চার্জশীট দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবশেষে ৩ মাস পর শাহজাদপুর প্রেস ক্লাবের অন্যতম সদস্য ও দৈনিক সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে (৬.১০ মিনিট) শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেন বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম। পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু, তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টু সহ ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম চার্জশীট দাখিল করার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত শেষে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু সহ মামলার এজাহারভূক্ত এবং ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া মোট ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান , ‘অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও বাকিদের ২৪ জন পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর ভাই হাফিজুল হক পিন্টু স্থানীয় সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে মেয়রের বাড়িতে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে তার দুই পা ও হাত ভেঙে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকরা বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে মিছিল নিয়ে পৌর মেয়রের মনিরামপুর মহল্লার বসত বাড়ির সামনে যায়। কর্তব্যরত পুলিশ মিছিলকারীদের হটিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু, তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টু সহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মেয়রের বাড়ি থেকে বের হয়ে মিছিলকারীদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। এ সময় মেয়রের বাড়ির অদূরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হন। একই দিন তাকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে দুপুরে শিমুল মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুকে প্রধান আসামী করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মিরুর লাইসেন্স করা শর্টগান ও ৪৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি জব্দ করে ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠায়। ব্যালেস্টিক রিপোর্টে নিহত সাংবাদিক শিমুলের ময়না তদন্তের সময় মাথায় পাওয়া স্প্রিন্টারের (লেড বল) সাথে মেয়রের শর্টগানের গুলির স্প্রিন্টারের মিল রয়েছে মর্মে মতামত দিয়ে ওই রিপোর্ট আমলি আদালতে দাখিল করেন। পরবর্তীতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মেয়রের ভাই হাবিবুল হক মিন্টুর দেয়া তথ্যানুযায়ী পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর মনিরামপুর মহল্লার বসত বাড়ি সংলগ্ন ডোবা থেকে পুলিশ একটি অবৈধ পাইপগান উদ্ধার করে। এদিকে তিন মাস পর সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার চার্জশীট দেওয়ায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী, নিহতের স্বজনেরা সহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সমাপ্তি ঘটার পাশাপাশি স্বস্তি ফিরে এসেছে।