শাহজাদপুরে সফল নারী উদ্যোক্তার পোল্ট্রি খামার হিংসাত্বকভাকে উচ্ছেদের পায়তারা !

শামছুর রহমান শিশির : শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের চর বাচরা গ্রামের পোল্ট্রি খামারী, উপজেলার পুরষ্কারপ্রাপ্ত সফল নারী উদ্যোক্তা রাবেয়া খাতুনের (৩৭) পোল্টি খামার উচ্ছেদের পায়তারা করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই গ্রামের বিশা ফকিরের ছেলে আবু সাঈদ জনৈক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ছোট ভাইয়ের পরামর্শে ওই কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে ওই সফল খামারী রাবেয়াকে নানাভাবে হয়রানী ও প্রাণনাষেরও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। আবু সাঈদ (৩৫) প্রতাপ, প্রভাব দেখিয়ে সফল খামারী রাবেয়ার নিজস্ব জমিতে স্থাপিত পোল্ট্রি খামারের পূর্ব পার্শ্বে জোরপূর্বক কাঁচা গোবরের স্তুপ রাখায় গত দেড় সপ্তাহ আগে ওই খামারের ৫ শতাধিক পোল্ট্রি মুরগী জৈবিক জীবাশ্মে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এতে খামারী রাবেয়ার প্রায় ৬৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে মর্মে তিনি অভিযোগ করায় সাঈদ এলাকাবাসীকে ভূল বুঝিয়ে সাদা কাগজে গণহারে স্বাক্ষর নিয়ে সফল নারী রাবেয়ার খামার উচ্ছেদের নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সফল নারী উদ্যোক্তা রাবেয়াকে প্রাণনাষের হুমকি প্রদান, খামারের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্বহস্তে বিচ্ছিন্ন, খামারের খুটি ভাংচুরসহ নানা অত্যাচার নির্যাতন নির্লিপ্ততায় চালিয়ে আসলেও দেখার কেউ নেই। এদিকে, খামারী রাবেয়ার ওপর অমানবিক নির্যাতন ও খামারের ক্ষতিসাধনে শাহজাদপুর পোল্ট্রি ডিলার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সফল নারী উদ্যোক্তা রাবেয়া বলেন, ‘তিনি শাহজাদপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত প্রায় ১৭ বছর ধরে সুনামের সাথে পোল্ট্রি ব্যবসা করে আসছেন। শাহজাদপুর পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের ডিলার ও অন্যতম সদস্য হিসেবে প্রায় ৭০ টি পোল্ট্রি খামার নিয়মিত তদারকী ও নারী সমাজে বিশেষ অবদান এবং নারী সমাজকে সাথে নিয়ে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার পুরষ্কারেও ভূষিত হয়েছেন। প্রভাবশালী সাঈদ ও তার স্ত্রী লতা খামার সংলগ্ন তার নিজস্ব জমিতে জোরপূর্বক কাঁচা গোবর রাখায় গোবরের জীবাশ্মতে আক্রান্ত হয়ে ৫ শতাধিক মুরগী মারা যাওয়ায় তার প্রায় ৬৮ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি প্রশানের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ওই ক্ষতিপূরণ আদয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।’
অন্যদিকে, ‘খামারে থাকা মুরগীর বিষ্ঠা থেকে অসহনীয় দূর্গন্ধ বের হয়’- খামার চালুর প্রায় ১ বছর পর উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এমন অভিযোগ এনে খামার অপসারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ হাসিব সরকার ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়ার নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি গত মঙ্গলবার রাবেয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আমোদালীকে অবহিত করলে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে ইউপি সদস্য আমোদালী পরদিন বুধবার সকালে গ্রাম প্রধান দ্বেরাজ আলীকে সাথে নিয়ে উভয়পক্ষকেই শুক্রবার পর্যন্ত হামলা, মামলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন এবং স্থানীয়ভাবে শুক্রবার গ্রামে বসে সুরাহার আশ্বাস দেন। ইউপি সদস্যের ওই পরামর্শকেও উপেক্ষা করে সাঈদ থানাসহ বিভিন্নস্থানে অভিযোগ দাখিল করলে এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে থানার এসআই নুরূল হুদা উভয় পক্ষকেই আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় থানায় হাজির হবার অনুরোধ করেন। যথাসময়ে ক্ষতিগ্রস্থ খামারী রাবেয়া, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আমোদালী, গ্রাম্য প্রধান দ্বেরাজ আলী ও নওশাদ আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ থানায় উপস্থিত হলেও অভিযোগকারী সাঈদ থানায় আসতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে সংবাদকর্মীরা সাঈদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘খামারে দুর্গন্ধে গরু কিছুই খেতে পারছে না। আমাদেরও বসবাস করা খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে।’ ১ বছর পূর্ব থেকে কী খামারে দুর্গন্ধ বের হতো না , বা ১ বছর আগে কেনো এমন অভিযোগ করেন নি ? – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ওই খামারের বিদ্যুৎ সংযোগের সুইচ খুলে বাড়ি নিয়ে যাবার কথা স্বীকার করেন।’
বিজ্ঞমহলের মতে, ‘উপজেলার গ্রামীণ জনপদে নারী সমাজের অর্থনৈতিক অগ্রগতির রূপকার, পোল্ট্রি খামারী রাবেয়ার ওপর জনৈক সাঈদ কর্তৃক নেমে আসা নির্যাতনের খড়গ দ্রুত প্রতিরোধ করা না গেলে এলাকার নারী সমাজের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্বনীর্ভরতার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ অতীব জরুরী বলে তারা মনে করছেন।