কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোঁধের বিকাশের লক্ষ্যেই 'আলোকবর্তিকা'


শাহজাদপুরে শীতার্তদের পাশে মহান শিক্ষক  সুমনা আক্তার শিমুর ‘মানবতার দেওয়াল’

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর ( সিরাজগঞ্জ ) প্রতিনিধি : ভেঙে পড়া সমাজ ব্যাবস্থায় মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব। যান্ত্রিকতার যুগে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক হয়ে উঠেছে কেবল স্বর্থের। একবিংশ শতাব্দীতে আত্মিক সম্পর্ক এখন কল্পনা। মানবিক সংকটের এই কালেও কেউ কেউ মানবতার ছাতা ধরেন অসহায় মানুষদের মাথার উপর। এমনই একজন মানবিক গুণসম্পন্ন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু। কেবল মানবিক দায়িত্ব বোধ থেকেই তৈরী করেছেন মানবতার দেওয়াল! শুধু তাই নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেবাধর্মী মনোভাব তৈরি করে হারিয়ে যাওয়া নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছেন প্রাণপন। এই বিপর্যস্ত সময়ে আশার আলোর মত গড়ে তুলেছেন ‘আলোকবর্তিকা’ নামে শিক্ষা মূলক সংগঠন। শিশু-কিশোরদের চোখে স্বপ্ন বুনে দিতে, মানবিক গুণাবলি হৃদয়ে রোপন করতেই তিনি গড়ে তুলেছেন সংগঠনটি। আর এই সংগঠনের ব্যানারেই তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘মানবতার দেওয়াল’! সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অর্থহীন জনমানুষ যেন এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাপড় ও শীতবস্ত্র বিনামূল্যে নিয়ে পরিধান করতে এবং সমাজের বিত্তবানেরা যেন তাদের অপ্রয়োজনীয় পোশাক ও শীতবস্ত্র অসহায়দের জন্য রেখে যায়;  সেই উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মানবতার দেওয়াল’!  এই প্রচেষ্টা তিনি গত বছর থেকেই চলিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছরের মত করে আরও নতুন উদ্যোমে শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে দেয়ালের সাথে হ্যাঙ্গারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী তাদের প্রয়োজনীয় পোশাক নিয়ে ব্যবহার করছে। বিদ্যালয়ের কিছু অভিভাবক ও শিক্ষার্থী ওই দেয়ালে পোশাক রেখে যাচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় সরবরাহের জন্য এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমনা আক্তার শিমু এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের মহান শিক্ষক ও মানবতার দেয়ালের উদ্যোক্তা সুমনা আক্তার শিমু বলেন, “বিদ্যালয়ের ধনী পরিবারের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নতুন ও তাদের অব্যবহৃত পুরাতন স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় এই দেয়ালে টাঙিয়ে রাখবে। বিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীদের কাপড় প্রয়োজন ওই দেওয়াল থেকে তারা নিয়ে ব্যবহার করবে। সুবিধা বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও পরিধেয় কাপড় যোগান দিতেই এটি চালু করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিকশিত হবে।”

এটি সবসময়ই চালু থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ আরও জানান, “বর্তমান সময়ে মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক বিপর্যয়। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত করাই ‘আলোকবর্তিকার’ প্রধান উদ্দেশ্য। এই সংগঠন শিক্ষার্থীদের  নির্ভিক, ন্যায়নিষ্ঠ, পরপোকারী, উদ্যোমী সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাধ্যবাধকতা নয়, উৎসাহ আর অনুপ্রেরণার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক গুণাবলীর বিকাশ এবং শিক্ষাগ্রহণ এর প্রতি মনোযোগী করে গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।সেই সাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা গুলো যেন প্রস্ফুটিত হতে পারে সেই সুযোগ করে দিয়ে পরিশুদ্ধ মানুষ গঠণের লক্ষ্যেই সংগঠণটি সৃষ্টি করা হয়েছে।”
এদিকে, সংগঠনটির মহৎ উদ্দেশ্যগুলোকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ এবং সচেতনমহল সংগঠণটির উত্তরোত্তর প্রসার ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।