২টি পিস্তল একটি চাপাতি, বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী ও জিহাদী বই উদ্ধার


শাহজাদপুরে র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি’র আঞ্চলিক প্রধান কিরণসহ ৪ জেএমবি সদস্য আটক

শামছুর রহমান শিশির ও মিঠুন বসাক : শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার শেরখালী উকিলপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে উপ সহকারী প্রকৌশলী (ফ্যাসিলিটিজ) শামসুল হক রাজার বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১২) জেএমবির আঞ্চলিক প্রধান (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) কিরণসহ জেএমবির চার সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছেন। এরা হলেন পাবনা সাথিয়ার নাইমুল ইসলাম , দিনাজপুরের আতিয়ার রহমান, সাতক্ষিরার আমিনুল ইসলাম শান্ত। তাদের আস্তানা থেকে ২টি পিস্তল একটি চাপাতি, বোমা তৈরীর সরঞ্জামাদী ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। কিরন একাধিক ছদ্ম নাম ব্যবহার করতেন বলে র‌্যাবের অতিরিক্তি মহা পরিচালক (অপারেশন) কর্ণেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার প্রেস ব্রিফিং এ এ কথা জানান। তিনি আরো জানান, মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম এলাকায় এক জঙ্গি বিরোধী অভিযানে মাহমুদ, জুয়েল ও আশরাফুলকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এদিন রাত ২ টার দিকে র‌্যাবের একটি দল শাহজাদপুর উপজেলা সদরের উকিলপাড়া একটি বাড়ি ঘিরে রাখে। জঙ্গিরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ভোরে পিস্তলের গুলি ছোঁড়ে। এ সময় এ অভিযানে শাহজহাদপুর থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন।
বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর থেকে এই বাড়িটিতে জঙ্গিদের আস্তানা রয়েছে এমন খবরে র‌্যাব-১২ ঘিরে রাখে। শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১২’র কোম্পানি কমান্ডার মিরাজউদ্দিন। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে র‌্যাবের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ওই আস্তনায় প্রবেশ করলে কিরণ, নাইমুল, আতিয়ার ও আমিনুল ইসলাম শান্ত সহ চারজন জঙ্গি বেড়িয়ে এসে র‌্যাবের হাতে ধরা দেন।
র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার মিরাজউদ্দিন জানান, চলতি মাসের ৫ তারিখে ছাত্র পরিচয়ে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। এরই মধ্যে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হ্যান্ড মাইকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। বেলা ১০ টার মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য সময় বেধে দেয়া হয়। এর আগেই সকাল সাড়ে নয়টায় জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করে। এ খবরে সকাল নয়টার দিকে র‌্যাব সদরদপ্তর থেকে হেলিকপ্টারযোগে শাহজাদপুরে আসেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক (অপারেশন) কর্ণেন তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার। আটককৃত জঙ্গিদের র‌্যাবের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এদেরকে শাহজাদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই বাড়িটি এখনও ঘিরে রেখেছে র‌্যাব ও পুলিশ। তার আশেপাশে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া এলাকার আশপাশ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বোমা ডিসপোজাল ইউনিট আস্তানাটি তল্লাসি চালাচ্ছেন।