মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জের


শাহজাদপুরে যুবকের হাতের কব্জি ও রগ কেটে দিল দূর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জের ধরে বাবু শেখ (২২) নামের এক যুবকের ডান হাতের কব্জি ও রগ টেকে দিয়েছে ওই একই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দূর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ অক্টোবর শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের দরগাপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের দোকানদার লাভলু শেখের ছেলে। বাবু শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে দূর্বৃত্তরা বাবুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর গলার মধ্যে গামছা ঢুকিয়ে ও গাছের সাথে বেধে বেধরক মারপিট করে পা ভেঙ্গে দেয়। এরপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম ভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতের কব্জির চার দিক কেটে রগ টেনে ছিড়ে ফেলে। তারপর দূর্বৃত্তরা তাকে একটি বস্তায় ঢুকিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা ও লাশ গুম করার চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে বাবু তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে এসে প্রাণে বেচে গেলেও এখন সে বগুড়া জিয়া মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনার পরদিন ১৩ অক্টোবর বাবু শেখের ছোটবোন নূপুর বেগম (৩২) শাহজাদপুর থানায় মামলা করতে যায়। শাহজাদপুর থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পত্র গ্রহণ করে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তারা তাকে আশ্বাস দিয়ে থানা থেকে বিদায় করে দেয়। এরপর মামলার অগ্রগতি ও আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে তিনি বাব বার থানায় যান। কিন্তু এ ঘটনার ৮ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সেটি মামলা আকারে রেকর্ড করা হয়নি বলে তিনি জানান। বাবু শেখের বাবা লাভলু শেখ, বোন নূপুর বেগম, চাচি মঞ্জিলা খাতুন, ফুপু রোকেয়া খাতুন, এলাকাবাসি সেরাজুল ইসলাম, লাইলি বেগম, জোসনা বেগম ও টিটু জানান হতদরিদ্র বাবু শেখ দীর্ঘদিন ধরে দরগাপাড়া মাজার এলাকায় ফুটপাতে বাতাসা বিক্রির দোকানদারী করে আসছিল। এতে তার স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে মোটামুটি ভালই চলছিল। এরমধ্যে একই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নাসিম, শুভ্র, ছোট, শাহাদত, আলতু ও জেবার সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। এর এক পর্যায়ে তাকে প্রথমে বিনা পয়সায় মাদক ইয়াবা সেবেনে আসক্ত করে ফেলে। এক পর্যায়ে মাদকের টাকা যোগাতে সে চুরি সহ নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরে। এরপর এদও কথায় সে মাদক বিক্রির সাথে জড়িয়ে পরে। বারবার তাকে চিকিৎসা কওে ভাল করা হয়। কিছুদিন যাওয়ার পর তারা আবারও তাকে নিয়ে মাদক বিক্রির কাজে লাগায়। গত ৫ মাস আগে সে ভাল হয়ে ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালায়। গত বৃহস্পতিবার সে বাড়ি আসে। মাদকের পাওনা টাকার দাবীতে তারা মধ্যযুগীয় কায়দায় হাতের কব্জি ও রগ কেটে বস্তায় ঢুকিয়ে নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এ ছাড়া তারা নির্মম ভাবে গাছে ঝুলিয়ে ও বেধরক পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। একটি অভিযোগ পত্র নিলেও তার কোন ব্যবস্থা করছেনা।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়া বলেন, তারা একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে তাদের বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের কোন বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।