শাহজাদপুরে যমুনা নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার: দুর্ঘটনার শঙ্কা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর অববাহিকার কৈজুরী হাট, মোনাকোষা ঘাট, জামিরতা গুদারাঘাট, বেনুটিয়া ও ভেড়াকোলাঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকাল একাধিক রুটে যমুনাচর, মানিকগঞ্জের আরিচা, গাজীপুরের মনিপুর, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, চৌহালী, এবং পাবনার বেড়ায় ইঞ্জিন চালিত অর্ধশত নৌকা ঝুকিপূর্ণ যাত্রী পারাপার করছে।

করোনা সংক্রমন রোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে গাদাগাদি করে যাত্রী বোঝাই করে নৌকা মালিকরা ঝুকিপূর্ণ পারাপাড় করছে।

সরে জমিনে ঘুরে আজ শুক্রবার সকালে জামিরতা গুদারাঘাট, বেনুটিয়াঘাট, কৈজুরী মোনাকোষাঘাটে হাজার হাজার নারী-পুরুষকে এসব ট্রলারে উঠতে দেখা যায়।

ঈদুল আযহার ছুটি সকল গার্মেন্টস কারখানায় শুক্রবারে শেষ হয়ে যাওয়ায় শনিবার অফিস করতে নৌরুটে নিরাপদে যাওয়ার জন্য যমুনা নদীর এসব ঘাট থেকে শত শত নারী-পুরুষ শ্রমিক ও তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে ট্রলারে ঝুকিপূর্ণ পারাপাড় করছে।

এসময় ঢাকা,গাজীপুর, নারায়নগঞ্জগামী ফিটনেসবিহীন ট্রলার নৌকায় গাদগাদি করে যাত্রীদের নিয়ে প্রমত্তা যমুনা পাড়ি দিতে দেখা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণীর নৌযান মালিকরা এসব রুটে শত শত যাত্রী নিয়ে উত্তাল যমুনা নদী পাড়ি দিলেও যেন দেখার কেউ নেই। মাঝে মধ্যেই যাত্রী বোঝাই এসব নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কোন হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা।

এছাড়াও ট্রলার নৌকা বোঝাই করে, নারী-পুরুষ, শিশুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যমুনা চরের চৌহালী, বানতিয়ার ও ভাটদিঘুলিয়ার চরে যাচ্ছে। নৌকায় প্রয়োজনের চেয়ে অধিক যাত্রী তোলায় পানি সমতল করে উত্তাল যমুনা পাড়ি দিলেও কারো মাথা ব্যথা নেই।

স্পর্শকাতর এসব রুটে অল্প খরচে চলাচল করা যায় বিধায় যমুনা পাড়ের অনেক মানুষ রাজধানী গামী মানুষ কৈজুরী-জামিরতা ঘাট থেকে মাত্র ৫০-১০০ টাকায় আরিচা ঘাটে যেতে পারে। ফলে প্রতিদিন এসব ঘাট থেকে মাইক দিয়ে ডেকে ডেকে আরিচা ও চৌহালীগামী ছোট বড় ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নৌকা যাতায়াত করছে। বিশেষ করে প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদূল আযহা’র আগে ও পরে এসব ঘাটে নৌকার সংখ্যা বেড়ে শতাধিক হয়ে যায়। ফলে যমুনাপাড়ের মানুষ ছাড়াও শাহজাদপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা এইসব ঘাট দিয়ে ঢাকা মানিকগঞ্জ যাতায়াত করে থাকে। এসব ঘাটের ইজারাদারগণ জানান, নৌকা বোঝাই করে না নিলে তাদের পোষায়না।

জামিরতা গুদারাঘাটের নৌকা মালিক সওবা হোসেন জানান, অন্যান্য সময় এই ঘাটে তার দুটি নৌকা আরিচা রুটে যাতায়াত করে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে তার ৬টি নৌকা নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরের মনিপুর আরিচায় যাতায়াত করছে। খরচ না পোষানোর কারণেই অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য যমুনা চরের হাট-বাজার গুলির কাচামাল ও গবাদী পশু পাখি এসব রুট দিয়েই আনা নেওয়া করা হয়। তবে এসব রুটে অবৈধ নৌযান ও মাঝি মাল্লাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ পাড়াপাড় থামবেনা। ফলে যে কোন মুহুর্তে যমুনা নদীর এসব রুটে নৌ-দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিপন্ন হতে পারে শত শত মানুষের প্রাণ।

সূত্রঃ দৈনিক সিরাজগঞ্জ