শাহজাদপুরে বিয়ের পিড়িতে বসতে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে, প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে গণধর্ষন ও হত্যাকান্ডের শিকার এক শোড়ষী !

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : প্রেমের টানে, ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে (প্রেমিকসহ ) প্রেমিকের কাছে গিয়ে গণধর্ষন ও নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের শিকার হলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ঝাউপাড়া মহল্লার হৎদরিদ্র পরিবারের এক ষোড়শী কণ্যা ! ঘটনাটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও রীতিমতো হার মানিয়েছে। ৫ বছর চিনে জেনে তার পরেই ঘর বাধার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে প্রেমিকের বাড়ি উঠেছিলো চরকায় সূতা কেটে জীবিকা নির্বাহ করা ভাগ্যবিড়ম্বিত খাদিজা (১৬)। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ এনায়েতপুরস্থ খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যেল কলেজ এন্ড হসপিটাল থেকে গতকাল ( মঙ্গলবার ) রাত ১১ টায় খাদিজার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার মূলহোতা ধর্ষক,লম্পট,ভন্ড প্রেমিক ইউসুফসহ প্রভাবশালী পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে। তবে এনায়েতপুর থানা পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ধর্ষকের পিতা ইসমাইলসহ ৫ জনকে আটক করেছে। এই নির্মম,লোমহর্ষক,বর্বরতামূলক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খুকনী ঝাউপাড়া মহল্লায়।
শাহজাদপুর থানা পুলিশ, নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ৩ ভাই, ৩ বোনের অভাবের সংসারে পার্শ্ববর্তী সাত্তার হাজীর বাসায় চরকায় সূতা কাটার কাজ করতো তাদের আদরের ধন,ছোট বোন খাদিজা। বাবা আনছার আলী শেখ অনেক আগেই ২য় বিয়ে করে তাদের কষ্টের অথৈ সাগরে ভাসিয়ে চলে গেছেন। এরপর থেকে তীব্র অভাব অনটনের মধ্যে কোনমতে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে তাদের। অভাবের তাড়নায় নিহত খাদিজা বেশীদূর পড়াশুনাও করতে পারেনি। লেখাপড়া করলে পেটে ভাত কীভাবে যাবে ?- এই বোধ থেকেই খাদিজা ৫ম শ্রেণির পর আর স্কুলে না গিয়ে এবাড়ি,ওবাড়ি গিয়ে চরকায় সূতা কেটে পরিবারকে সহায়তা করেছে-যতটুকু পেরেছে। ভাড়া থাকার সুবাদে ৫ বছর পূর্বে পরিচয় হয় একই গ্রামের ইসমাইল আলীর ছেলে লম্পট ইউসুফের সাথে। দেখা-দেখি, ভালোলাগা থেকেই তাদের মধ্যে জন্ম হয় ভালোবাসার। লম্পট ইউসুফ খুকনী বাজারে ধর্মপাল দাসের রংয়ের দোকানে কর্মচারীর কাজ করতো। ফোনালাপের মাধ্যমে খাদিজা-ইউসুফের ভালোবাসা ক্রমশ গাঢ় হতে থাকে। এক পর্যায়ে গত গত রোববার সন্ধ্যায় লম্পট ইউসুফের বিয়ে করার প্রলোভনে খাদিজা বাড়ি থেকে পালিয়ে ইউসুফের বাড়িতে ওঠে। এ ঘটনার পর খাদিজার ওপর অভিমান করে হৎদরিদ্র পরিবার তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে, খাদিজা চরম অসুস্থ হয়ে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যেল কলেজ এন্ড হসপিটালে রয়েছেন – তার স্বজনেরা এ খবর জানতে পেরে দ্রুত ছুঁটে যান হসপিটালে। কর্তব্যরত ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলে স্বজনদের জানানো হয়,‘হাসপাতালে আনার আগেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে।’ এ ঘটনাটি জানাজানি হলে হাসপাতালে খাদিজাকে নিয়ে যাওয়া লম্পট ইউসুফের পিতা ইসমাইল আলী (৫৫), চাচা ইব্রাহিম (৫০), মামা ভোলা (৪০)সহ ইব্রাহিমের দুই ছেলেসহ মোট ৫ জনকে আটক করে এনায়েতপুর থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ওই ৫ জনকে আটক করে এনায়েতপুর থানায় নিয়ে যায়। নিহতের সহোদর ভাই চা বিক্রেতা সবের আলী শেখ, চাচাতো ভাই আলী আকবর ও শাহজাহান জানান,‘ গত সোমবার রাতের কোন এক সময়ে তাদের বোন খাদিজাকে গণধর্ষন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তারা শাহজাদপুর থানা পুলিশে খবর দিলে শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল হুদা সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে গতকাল রাতেই নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে এসআই নূরুল হুদা জানিয়েছেন,‘খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একটি ইউডি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আজ বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ সিরাজগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ অপরদিকে, গ্রামের নীরিহ সহজ সরল এক শোড়ষী মেয়ে ৫ বছর ধরে প্রেম করে প্রেমিককে বিয়ে করতে বাড়ি থেকে পালিয়ে তার আশ্রয়ে গিয়ে গণধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকান্ডের শিকারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে ভন্ড প্রেমিক,লম্পট,ধর্ষক ইউসুফসহ সকলকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.