কীটনাশক ও বিষ মুক্ত


শাহজাদপুরে বাড়ির ছাদে হচ্ছে ফল ও সব্জি চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর শহরের দ্বারিয়াপুর লোদীপাড়া গ্রামে বাড়ির ছাদের টবে হচ্ছে কীটনাশক ও বিষমুক্ত দেশী-বিদেশী ফল, ফুল ও সব্জি চাষ। এ গ্রামের মৃত শাজাহান খান লোদী ও মোছাঃ মঞ্জুরী খান লোদীর ছেলে কামরুল হাসান খান লোদী মুরাদ (৪২) পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণে নিজ বাড়ির ছাদের উপর টবের মধ্যে এ চাষ করছেন। তিনি বলেন, বাজারে যে সব ফল ও সব্জি পাওয়া যায়, তা বিষ মুক্ত নয়। উচ্চমাত্রার কারবাইড দিয়ে পাকানো হয় ফল। এ ছাড়া অতিমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে উৎপাদন করা হয় হাইব্রীড জাতের সকল সব্জি। ফলে প্রতিনিয়ত আমরা বিষ ও কীটনাশকযুক্ত ফল ও সব্জি খেয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে অসময়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছি। এ থেকে আমার পরিবারকে বাঁচাতে আমি আমার বাড়ির ছাদে টবের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী-বিদেশী ফল ও সব্জির চাষ করার উদ্যোগ নেই। গত ১০ বছর ধরে আমি আমার বাড়ির ছাদে টবের মধ্যে এ ফল ও সব্জি চাষ করে আসছি। প্রথমে এটাকে সবাই পাগলের পাগলামী বলে মনে করলেও এ চাষ এখন এলাকার অনেকের মডেল বাগানে পরিণত হয়েছে। শুধু ফল ও সব্জিই নয়, এখন আমি আমার বাড়ির সাদে টবের মধ্যে শবরিকলা চাষ ও দেশী জাতের মুরগী ও কবুতর পালন করছি। আগামীতে এটা বাণিজ্যিক আকারে বড় করে করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তার এ বাগানে দূর্লভ প্রজাতির ফুল, ফল, সব্জি ও ওষুধি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিদেশী ফল ও ফুলের গাছ রয়েছে। এ গুলি হল, চায়না জাতের মাল্টা, কড লেবু, বেদানা ও করমচা। দেশী জাতের মধ্যে রয়েছে পেয়ারা, পেপে, বাতাবি লেবুও কাগজি লেবু। শাক-সব্জির মধ্যে রয়েছে, লাউ, কুমড়, কচুশাক, জেন আলু, কাঁচামরিচ,বেগুন, টমেটো, ধনে,আদা ও শবরিকলা। ওষুধি গাছের মধ্যে রয়েছে, মেহেদী, ঘি-কাঞ্চন, শতমূল, তুলশি, পাথরকুচি, ইক্ষু, আনারস, ডায়াবেটিক নিরাময়পাতা ও গন্ধবপাতা। ফুলের মধ্যে রয়েছে, ৫ রকমের জবা, ল্যান্টেনা, সাদা রঙ্গণ, কাঁটা মন্টক, পর্তুলিকা ও টাইগার লিলি। তিনি বলেন, কবুতর গুলি সব বিক্রি হয়ে গেছে। আবার নতুন জাতে কবুতরের বায়না দিয়েছি। দেশী জাতের মুরগী প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। দেশী জাতের মরগ পালন করে মাংসের চাহিদা পূরণ করছি। ফলে আমার এই ছাদ বাগানটি একটি প্রোটিন ও পুষ্টি সমৃদ্ধ কীটনাশক ও বিষমুক্ত আদর্শ বাগানে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সার হিসেবে আমি ভার্মিজ কম্পজড কেঁচো সার, জৈব সারখইল ও গবর সার ব্যবহার করি। অপরদিকে আলোকফাঁদ ব্যবহার করে কীটপতঙ্গ দূর করছি। তিনি আরো বলেন, তার স্ত্রী তানজিলা খান আফরিন ও একমাত্র মেয়ে মুনতাহা খান লোদী (৫) তার এ কাজে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগীতা করে থাকে। এ উদ্যেগকে স্বাদুবাদ জানিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জু আলম সরকার বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে কৃষকদের বিরত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া বালাই ও খীট পতঙ্গ দূর করতে অলোলক ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। অপরদিকে বাড়ির ছাদ, কার্ণিশ ও পতিত জায়গায় ফল ও সব্জি চাষে সবাইকে পরামর্শ দিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে শাহজাদপুর শহরে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তিনি কামরুল হাসান খান লোদী মুরাদকে এ বাগান পারিচর্চায় সব ধরণের সহযোগীতা প্রদান করেন বলে জানান।