শাহজাদপুরে বইছে ‘লু’ হাওয়া; শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে

শামছুর রহমান শিশির : গত ক’দিন হলো শাহজাদপুরে ‘লু’ হাওয়া বইতে শুরু করেছে। অগ্নিঝরা উতপ্ত বায়ুপ্রবাহে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাসহ প্রাণিকূলের জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত হারে লোডশেডিংয়ের ফলে সর্বসাধারণের জনজীবন বিষিয়ে ও তেঁতো হয়ে উঠেছে। শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই পৌরসদরের একমাত্র বেসরকারি শিশু হাসপাতালে এসব রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আজ সোমবার স্থানীয় বেসরকারি শিশু হাসপাতালে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ক্লিনিকে আসলেও তারা নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। উপজেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে জগতলা গ্রামের মৌসুমী খাতুন ও জামিরতা গ্রামের বাবু হোসেন জানান তাদের ৪ মাসের শিশু বাচ্চাকে চিকিৎসকের কক্ষে নিতে প্রচন্ড ভীড় থাকায় তাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একটি মাত্র ডাক্তার দিয়ে তারা চিকিৎসা চালাচ্ছে। তারা আরও জানান, পৌর এলাকায় কোন সরকারি হাসপাতাল নেই ৫ কিলোমিটার দূরে পোতাজিয়া হাসপাতাল থাকলেও শিশুদের নিয়ে দূরত্বের কথা ভেবে অনেকেই এই স্থানীয় শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসতে দেখা গেছে। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাহ মোস্তাফা সরোয়ার জানান, ঋতু পরিবর্তন ও প্রচন্ড গরমের কারণে জ্বর, ডায়রিয়া রোগেই বেশির ভাগ শিশু আক্তান্ত হচ্ছে। এছাড়া নিউমোনিয়া রোগির সংখ্যাও কম নয়। প্রতিদিন শত শত শিশু রোগির সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পোতাজিয়া হাসপাতালের কর্মকর্তা তোরাব হোসেন জানান, প্রতিদিন এই হাসপাতালে ২০-২৫ জন শিশু জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও ডায়রিয়া রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ রোগের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অপরদিকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে দেখা গেছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়াই ওই হাসপাতালের কর্মচারীরা ইনঞ্জেকশন ও অক্সিজেন দিচ্ছে। ফলে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান ব্যহতজনিত কারণে যে কোন সময় এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রাণহানী ঘটতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগিরা সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।