শাহজাদপুরে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক আহত

শাহজাদপুরে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শতাধিক আহত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ মে) মোবাইলে ফ্রী ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। আহতরা উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের পূর্ব চর-কৈজুরী গ্রামের স্থানীয় লতিফ মোল্লার ছেলে সুজন ও আব্দুল কাদেরের ছেলে আসাদুল মোবাইলে ফ্রী ফায়ার গেম খেলার সময় ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। এরই জের ধরে ইভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। মঙ্গলবার (১৮মে) আপোষ বৈঠকের সময় গোপালপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য চুন্ন্ ুমেম্বার ও প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য গফুর শেখ এর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এসময় গোপালপুর, পূর্ব চর-কৈজুরী ও অজ্ঞাতা একটি জায়গায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে শাহজাদপুর থানার বিপুল সংখ্যাক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান, পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান ও পরিদর্শক (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ।

এই বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চুন্নু  শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, গত শনিবার প্রতিপক্ষ আব্দুল কাদের সঙ্গীয় বানিনী নিয়ে আমার ভাতিজা সুজনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলার ঘটনায় সুজনের পিতা লতিফ মোল্লা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় আব্দুল কাদের শেখ কে প্রধান আসামী করে কয়েকজনের নামে মামলা করে। এরই ফলে কাদের মোল্লার লোকজন আমাদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ২০/৩০ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আমাদের লোকজন আত্মরক্ষার্থে প্রতিরোধ করে।

অত্র ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গফুর শেখ জানান, চুন্নু মেম্বার একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এই এলাকাটা সন্ত্রাসের জনপথ করে রেখেছে। দুইজন কিশোরের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চুন্নু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করে। তাদের হামলায় আমাদের প্রায় ৫০/৬০ আহত হয়েছে।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম এর প্রতিবেদককে জানান, মোবাইল গেম খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে উভয়পক্ষের মাঝে বিবাদের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই আপোষ মিমাংসার লক্ষ্যে বৈঠক করার সময় উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।