ভবিষ্যতে ফসল আবাদে বিঘ্ন ঘটলে সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহে এসব প্রান্তিক কৃষকদের চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে। অবিলম্বে ফসলী জমির উর্বরা শক্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকেরা


শাহজাদপুরে ফসলী জমি রক্ষায় আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশ; বন্ধ হয়নি বালু ভরাট কাজ

শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম, নিজস্ব প্রতিনিধি, ১২ আগস্ট ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ : শাহজাদপুর উপজেলার পাড়কোলা মৌজায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণাধীন জমিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ সম্পন্ন না করেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু দিয়ে জমি ভরাট বন্ধে স্থানীয় কৃষকদের পক্ষ থেকে অবশেষে আদালতে মোকাদ্দমা দায়ের হয়েছে। ‘বালু দিয়ে জমি ভরাট কাজে কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না?’- এ মর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর কারণ দর্শাতে বিজ্ঞ আদালতের পক্ষ থেকে বিবাদী গংকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রদান করা হলেও বন্ধ হয়নি বালু ভরাট কাজ। ফলে ভবিষ্যত ক্ষতির আশংকায় স্থানীয় কৃষকেরা বিচলিত হয়ে পড়েছে।
শাহজাদপুর সিনিয়র জজ আদালতে কৃষকদের পক্ষে দায়েরকৃত অপর প্রকার মোকাদ্দমা (নং-১৩৩/২০১৮) এর বাদী আব্দুল হালিম গং আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, শাহজাদপুর উপজেলার পাড়কোলা মৌজায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের নির্মাণাধীন জমিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ সম্পন্ন না করেই পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু দিয়ে জমি ভরাট কাজ করায় পার্শ্ববর্তী উর্বর ফসলী জমিতে বালির স্তর পড়তে পারে যা ভবিষ্যতে ফসলহানীর অন্যতম কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। ওই স্কুল এন্ড কলেজের জমি সংলগ্ন আরএস ২৬৭০, ২২৬৬, ২২৬৫, ২৬৭১, ২৬৭২, ২৬৭৭, ২৬৮০, ২৬৬৮ দাগের বাদীপক্ষের নিজস্ব ক তপশীলের প্রায় ৫ বিঘা উর্বর ফসলী জমি বালুর হাত থেকে রক্ষায় গত ৩০ জুলাই স্থানীয় কৃষকেরা বগুড়া জোনের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ওই অভিযোগের অনুলিপি শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ বরাবর প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় গত বুধবার শাহজাদপুর সিনিয়র জজ আদালতে কৃষকদের পক্ষ থেকে অপর প্রকার একটি মোকাদ্দমা করা হয়। বিজ্ঞ আদালত মোকাদ্দমাটি আমলে নিয়ে ৩ ও ৪ নং প্রতিপক্ষকে নির্ধারিত সময়সীমা বেধে দিয়ে ‘বালু দিয়ে জমি ভরাট কাজে কেনো নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না?- মর্মে কারণ দর্শাতে বৃহস্পতিবার নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও ওই স্থানে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালি ভরাট কাজ অব্যাহত থাকায় ইতিমধ্যেই তাদের জমিতে পুরু স্তরের বালু জমতে শুরু করেছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের জমিসহ পার্শ্ববর্তী প্রায় ৫০ বিঘা উর্বর ফসলী জমিতে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। আর ভবিষ্যতে ফসল আবাদে বিঘ্ন ঘটলে সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহে এসব প্রান্তিক কৃষকদের চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে। অবিলম্বে ফসলী জমির উর্বরা শক্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকেরা।