শাহজাদপুরে পৃথক দুটি হামলা সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২০ জন আহতঃ আটক ৫

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহজাদপুর উপজেলার শ্রীফলতলা ও সরাতৈল গ্রামে পৃথক দুটি হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া সরাতৈল গ্রামে বোমা ফাটিয়ে ও গুলি বর্ষণ করতে করতে বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। হামলা কারীদের ৬ জনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এ দুটি গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে এ দুই গ্রামে পুলিশি টহলের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ঘোষ শ্রীফলতলা গ্রামে আজ বুধবার সকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা সংঘর্ষে হাবু সরকার (৩৫) নামে এক ব্যাক্তি প্রতিপক্ষের ফালার আঘাতে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই মহিলাসহ ৫ জনকে আটক করেছে। নিহত হাবুর স্ত্রী জুলিয়া খাতুন জানায়, ঘোষ শ্রীফলতলা গ্রামের আব্দুর রউফ ওরফে রব্বানীর (৭০) সাথে দুই বিঘা জমি নিয়ে একই গ্রামের নিহত হাবু সরকারের সাথে আদালতে মামলা চলছিল। রব্বানী ও তার লোকজন বুধবার সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে গরু দিয়ে ঘাস খাওয়াতে যায়। এতে বাধা দিলে হাবু সরকার গ্রুপের সাথে রব্বানীর গ্রুপের হামলা সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের ফালার আঘাতে হাবু গুরুতর আহত হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিবাদী গ্রুপের আলেয়া বেগম (৫০), মোমেনা বেগম (২৬), আব্দুর রহিম (৫০), আলম সরকার (৩০) ও আব্দুর রউফ ওরফে রব্বানীকে আটক করে। শাহজাদপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই খুন হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।


অপরদিকে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামে আজ বুধবার ভোর রাতে আওয়ামীলীগ নেতা কোরবান আলী হত্যা মামলার আসামীরা মোল্লা গোষ্ঠির লোকজন বোমা ফাটিয়ে ও গুলি বর্ষণ করতে করতে ডোকলা গোষ্ঠির বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হামলা সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, রহিম মন্ডল (২৮), শাহাদ মন্ডল (৪৫),রহমত মন্ডল (৩০), হায়দার ফকির (২৮), ইসমাইল (৩২), জামাল মোল্লা (২৮), রাজ্জাক প্রাং (২৮), ছলিম ফকির (৩২), রব্বেল (৩৬), খাদিজা খাতুন (৪০) কে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হক বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। এর পরেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.