শাহজাদপুরে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে ধ্বস

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নে এলজিইডি অর্থায়নে ‘কবরস্থান হতে গাতিরপাড়া মাদরাসা’ পর্যন্ত ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ৩ দিনের মাথায় ধ্বসে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের মধ্যে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ কাজ শেষ করায় সড়কটির দু’পাশে ধ্বসে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ৩ দিনের মাথায় সড়কটি ধ্বসে পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে এলজিইডি প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ওই রাস্তাটির উন্নয়নের জন্য টেন্ডার আহবান করলে বগুড়ার বানী কন্সট্রাক্সশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই রাস্তা নির্মাণের কাজ পায়। কিন্তু বানী কন্সট্রাক্সশন নির্মাণ কাজটি দীর্ঘদিন না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ দুইবার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তাতেও কোন কাজ না হলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় কাজটি সম্পন্ন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের নির্মাণ কাজটি পোতাজিয়া গ্রামের ওয়াজ আলী নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে সাব-কন্টাক্টের হিসেবে বিক্রি করে দেয়। সাব-কন্ট্রাক্ট নেওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে মাটি ভরাট করে নানা অনিয়মের মাধ্যমে কাজটি সমাপ্ত করা হয়। পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আব্বাস আলী, গাতিরপাড়া গ্রামের মোতালেব হোসেন, রহমত আলী, ফরিদ উদ্দিন ও আব্দুল আলিমসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ওই সড়কের কাজ করা অবস্থায় এলাকাবাসী বাঁধা দিলে সাব-কন্ট্রাক্টর ওয়াজ আলী কোন তোয়াক্কা না করে এলাকার প্রবাবশালীদের ছত্রছায়া নিজের ইচ্ছেমতো কাজ সম্পন্ন করে। তারা আরও জানান, দূযোর্গপূর্ণ আবহওয়ার মধ্যেই গত ২০ জুলাই র্কাপেটিং এর কাজসহ সিসি ব্লক ও জিও টেক্সটাইলের কাজ ত্রুটিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করার কারণেই রাস্তাটি ধ্বসে পড়েছে। এ ব্যাপারে সাব-কন্ট্রাক্টর ওয়াজ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, যথায়থভাবে কাজ শেষ করে অফিসকে বুঝে দিয়েছি, বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙ্গে গেলে আমার করার কিছুই নেই। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক জানান, পোতাজিয়া গ্রামের নব-নির্মিত সড়কটি টানা বর্ষণের কারণে ধ্বসে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও জানান, সিডিউল মোতাবেক যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হবে।