শাহজাদপুরে নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক, শালিসে জুতো পেটা

শাহজাদপুরে নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক, শালিসে জুতো পেটা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাচামারা গ্রামে মঙ্গলবার (১৮মে) রাতে আপত্তিকর অবস্থায় নারী ও পুরুষকে আটক করা হয়। পরে গ্রাম্য শালিসে আটককৃত পুরুষ আক্কেল আলী কে ২০ বার জুতো পেটা করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮মে) রাত আনুমানিক সারে আটটায় উপজেলার বাঁচামারা উত্তরপাড়া গ্রামে মৃত ভোলনের স্ত্রী চার সন্তানের জননী (৪৫) ও যুগ্নীদহ গ্রামের ৫ সন্তানের জনক আক্কেল আলী (৪৫) কে প্রতিবেশীরা আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে স্থানীয় একটি চাউলের চাতালে রাত সারে ১০টায় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে আটককৃত আক্কেল আলীকে ২০ বার জুতো পেটা করে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়।

প্রতিবেশী জনৈক মফিজ নামের একজন শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, আক্কেল আলী মাঝে মধ্যেই মৃত ভোলনের বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে যাতায়াত করতো। বিষটি আমাদের কাছে অস্বাভাবিক লাগতো, মঙ্গলবার আমি বাজার থেকে বাড়িতে আসার পর আমার স্ত্রী ও আরো কয়েকজন জানায় আক্কেল আলী এখন ঐ নারীর ঘরে অবস্থান করছে। আমি উকি দিলে তাদের আচরণ দেখে সন্দেজনক মনে হয়, পরে আক্কেল আলী নিজের পরনের জামাকাপড় খুলে ফেলে এবং ঘরের আলো নিভিয়ে দেয়। ঘটনার পরে ঘর থেকে বের হলে তাকে আটক করা হলে সে তার কৃত কর্মের জন্য ক্ষমা চায়।

আটককৃত আক্কেল আলী শাহজাদপুর সংবাদ ডটকমকে জানান, আমি ভোলনের স্ত্রীর কাছে তার মেয়ের বিয়ের কথা বলার জন্য এসেছিলাম। ফেরার পথে লোকজন আমাকে আটক করে। আরো জানা যায়, উক্ত শালিস বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবলু শেখ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়টি আমি জানিনা এবং কেউ আমাকে জানায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক মন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। এই বিষয়ে এভাবে কেউ শালিস করতে পারেনা।

এই শালিসে উপস্থিত থেকে শালিস পরিচালনাকারী নরিনা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান টেক্কা জানান, গ্রামের প্রধানদের সিদ্ধান্তেই এই ধরনের রায় এসেছে। এ ধরনের শালিস পরিচালনার আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন কিনা এই প্রশ্ন করা হলে টেক্কা জানান, আপনাদের যা লেখা আপনারা লিখতে পারেন।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং) আব্দুল মজিদ জানান, এ ধরনের বিষয়ে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিচার করার কোন সুযোগ নেই। এই বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি, আটকৃতদের থানায় হস্তান্তর করা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।