শাহজাদপুরে দুই গোষ্ঠির সংঘর্ষে আহত ১৫ : ব্যাপক গোলাগুলির অভিযোগ

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : পূর্ব বিরোধের জের ধরে আজ বুধবার ভোররাতে শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সড়াতৈল গ্রামে মোল্লা গোষ্ঠি ও ডোকলা গোষ্ঠির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তবে গোলাগুলির বিষয়টি পুলিশ অস্বীকার করেছে। উভয়পক্ষের আহতদের মধ্যে জামাল মোল্লা (৩০), শাদাত মন্ডল (৫৫), রহমত উল্লাহ (৩৫), আব্দুর রহিম (৩৬), হায়দার (৩৫), ইসমাইল (৩৫), রুবেল (২২) ও মিজানুর (২৬) এর জখম গুরুতর। এদেরকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সড়াতৈল গ্রামের মোল্লা গোষ্ঠি ও ডোকলা গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ চলে আসছিলো। এর আগে ওই দুই গোষ্ঠির মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলাসহ একাধিক হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৫ বছর আগে ডোকলা গোষ্ঠির সমর্থক ফরাজ আলী খুন হবার পর থেকেই মোল্লা গোষ্ঠির লোকজন ডোকলা গোষ্ঠির দাপটে গ্রামছাড়া হয়। সর্বশেষ ডোকলা গোষ্ঠির সমর্থক কায়েমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী প্রায় ১ বছর আগে দুর্বৃত্তদের হাতে নৃসংশভাবে খুন হয়। এ ঘটনায়ও ডোকলা গোষ্ঠির লোকজন মোল্লা গোষ্ঠিকে দায়ি করে থানায় একটি মামলা করে। এদিকে, ভিটেমাটি ছাড়া মোল্লা গোষ্ঠির লোকজন বুধবার রাতে বাড়ি ফেরে। এ ঘটনায় গ্রামটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ভোররাতে উভয়পক্ষই দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে ওপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে সড়াতৈলসহ আশপাশের গ্রামের লোকজন ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং আতংকিত হয়ে পড়ে। এ সময় উভয়পক্ষের ৯ ব্যক্তি আহত হয়। পরে ডোকলা গোষ্ঠির লোকজন মোল্লা গোষ্ঠির আরও ৬ জনকে আটক করে বেধড়ক মারপিট করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই ৬ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাদেরকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে আহত রহিম ফরাস ও কোরবান হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি।এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ডোকলা গোষ্ঠির প্রধান নবী ডোকলা ও মোমিন বলেন,‘মোল্লা গোষ্ঠির লোকজন পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে নিহত কোরবানের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রতিরোধ করতে গেলে হামলাকারীরা উপযুপোরী গুলিবষর্ণ করে।’ অপরদিকে, ‘মোল্লা গোষ্ঠির প্রধান আশরাফ মোল্লা হামলা ও গোলাবর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘ডোকলা গোষ্ঠির অত্যাচারে তারা প্রায় ৫ বছর ধরে গ্রামছাড়া ছিলো। ভিটেমাটির টানে মঙ্গলবার তাদের কিছু সমর্থক গ্রামে ফিরে আসে। এ খবরে ডোকলা গোষ্ঠির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। গ্রামছাড়া করতে তাদেরকে লক্ষ করে মুহুমুহু গুলি ছোড়ে। এ ঘটনার পর তাদের ৬ জন সমর্থককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আটকে রেখে বেধড়ক মারপিট করে।’ গুলি ছোঁড়ার ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার সেকেন্ড অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন,‘আপনারাও যা শুনেছেন, আমরাও তেমনটি শুনেছি। তবে গুলির কোন আলামত পাওয়া যায়নি।’ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হক জানান,‘গুলি ছোড়ার বিষয়টি সত্য নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আলামত পাওয়া যেতো। এখনো মামলা হয়নি। তবে গ্রামটিতে উত্তেজনা নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.