শাহজাদপুরে ত্রাণের জন্য হাহাকার

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের সব ফসলি জমি ও নিচু সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া কৈজুরি,জালালপুর,খুকনি,সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের ২ শতাধিক মানুষ গরু,ছাগল,ভেড়া নিয়ে এনায়েতপুর-ভেড়াকোলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানুষ ও গবাদি পশু এক সাথে এক ঝুপড়ির মধ্যে বাস করছে। বন্যার পানিতে ডুবে আছে উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম। এর মধ্যে গালা ইউনিয়নের, হাতকোড়া, বৃ-হাতকোড়া, মোহনপুর, রতনদিয়া, গোপালপুর, ধলাই গ্রামের সব গুলো বাড়িঘর ও বিনটিয়া, তারটিয়া, কাশিপুর গ্রামের অধিকাংশ, সোনাতনী ইউনিয়নের বাঙ্গালা,আগবাঙ্গালা গ্রামের সব গুলো বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বন্যা দূর্গত ও পানিবন্দি এ সব গ্রামের শত শত মানুষের ঘরে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কৈজুরি,জালালপুর, খুকনি, সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙ্গণ শুরু হওয়ায় ২ শতাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে বিষয়ে বেনুটিয়া গ্রামের আফজাল হোসেন,মাজেম আলী, মজনু শেখ,জালু মোল্লা,লালু প্রাং,জয়নাল সরদার,তোরাব আলী,নায়েব আলী, শরিফুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, আসাদুল ইসলাম, তারটিয়া গ্রামের হাসান আলী,আব্দুর রাজ্জাক,শাহাদত হোসেন জানান, গত ১০ দিন হল আমাদেও বাড়িঘর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সেই থেকে বাঁধে আশ্রয় নিয়ে আছি। এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের কোন খোজ নেয়নি। আমরা এক বেলা,আধ বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। ছোট ছেলে মেয়ে, গরু, ছাগল নিয়ে এক ঝুপড়িতে বাস করছি। একটু বৃষ্টি এলেই সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। গবাদি পশুর খাবার জোগান দিতে পারছি না। আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছি।

এ বিষয়ে গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন বলেন, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্ত বন্যাদূর্গতদের জন্য এখনও কোন ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পেলে বন্যা তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন,এ বিষটি জেলায় জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি পেলে বিতরণ করা হবে।

সূত্রঃ আজকের জাহান