গ্রাম্য সালিশের ৮ লাখ টাকা এখনও ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন


শাহজাদপুরে তথাকথিত হালিম বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষ

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের দুর্গম এক পল্লীর নাম সন্তোষা। শাহজাদপুর পৌর এলাকা থেকে গ্রামটির অবস্থানগত দুরত্ব খুব বেশি না হলেও নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আজও আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি এ গ্রামটিতে। এ সুযোগে হত্যার চেষ্টা, হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, বড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামি তথাকথিত হালিম বাহিনী’র প্রধান সন্তোষা গ্রামের হযরত আলী মন্ডলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম দিনে দিনে সন্তোষা গ্রামকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে চলেছে। হালিম বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়নে এ গ্রামের অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও প্রাণভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তারা হালিম বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চায়।
সরেজমিন পরিদর্শনে উপজেলার সন্তোষা গ্রামের ভীত সন্ত্রস্ত্র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য অসহায় মানুষের অভিযোগ, ‘রূপবাটি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তথাকথিত হালিম বাহিনীর রাকিবুল ইসলাম হালিম গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্তোষা গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। নির্বাচনের পরে আসন্ন রূপবাটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ও পরে ইউনিয়ন যুবলীগের স্বঘোষিত সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালালে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান হালিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এতে থেকে না থেকে ভিলেজ পলিটিক্সের নামে সন্তোষাসহ পাশর্^বর্তী গ্রামের খেটে খাওয়া অসহায়দের ফাঁসিয়ে জোর করে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। দুর্গম এ পল্লীতে হালিমের নেতৃত্বে সন্তোষা খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ও নৌকায় প্রকাশ্যে চলছে মিনি ক্যাসিনো ও জুয়া, উচ্চ সুদের রমরমা ব্যবসা, মাদকের প্রসার, নারী নির্যাতন, বৈদ্যুতিক মিটার ও খেয়াঘাটের ইজারা এনে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। হালিমের প্রতারণা থেকেও বাদ পড়েনি এলাকার বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড প্রত্যাশী অসহায় দুস্থ মানুষ। গ্রামের নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে মোটা অর্থ আদায়সহ পাশর্^বর্তী গ্রামের সাথে বিবাদ দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দিয়ে পুরো সন্তোষা গ্রামবাসীকে তীব্র ঝূঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তথাকথিত এ বাহিনী প্রধান হালিম। এদের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, প্রতারণা ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ টু-শব্দ করতে সাহস পায়না। করলেই তার ওপর নেমে আসে এদের নানা জুলুম, অত্যাচার আর নির্যাতন। সম্প্রতি একই ইউনিয়নের চর আন্দারমানিক গ্রামের আল আমিন নামের এক সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ফাঁসিয়ে জোর করে ৮ লাখ টাকা আদায় করলে প্রথমবারের মতো হালিম ও তার সহযোগীদের কু-কর্মের বিরুদ্ধে আইজিপি অফিসে লিখিত অভিযোগে মুখ খোলেন আল আমিন নামের ওই চাকরিজীবী। এ খবর জানতে পেরে হালিম বাহিনী বাদী আল আমিনের বড় ভাই মোহাম্মদ আলীকে রাতের আঁধারে বেড়ী বাঁধে ডেকে নিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। অন্যথায় আব্দুর রাজ্জাক ও পেশকার মোল্লার মতো তাকেও এলাকাছাড়া করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
আইজিপি অফিসে দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার পদে কর্মরত বাদী মোঃ আল আমিনের ওপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে বে-আইনী ভাবে ৩ দফায় ৮ লাখ টাকা আদায় করে তথাকথিত হালিম বাহিনীর প্রধান রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিম ও তার দলবল। তথাকথিত হালিম বাহিনী কর্তৃক বে-আইনীভাবে আদায় করা ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত, ন্যায় বিচার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী আল আমিন অভিযোগটি করলে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী’র তত্বাবধানে এসব অভিযোগের বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও ওই ৮ লাখ টাকা ফেরত পায়নি ভুক্তভোগী আল আমিন।
এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম ওরফে হালিমের মুঠোফোনে জানান, ‘তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা। তিনি কাউকে ভয়ভীতি দেখানটি বা কারও ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেন নি।’
অপরদিকে, এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) ফাহমিদা হক শেলী বলেন,‘এ বিষয়ে পুলিশী তদন্ত চলছে।