দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী


শাহজাদপুরে জেমির অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ নিরীহ মানুষজন

শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী এলাকার মোকছেদ প্রামাণিকের মেয়ে নবীয়া ওরফে জেমি (৩৮)’র অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ মানুষজন। কথায় কথায় গালিগালাজ, মারপিট, হুমকি, ধামকি, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে এলাকার অনেকেরই কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করাই জেমির কাজ। এমপি, মন্ত্রীসহ উপরমহলের অনেকেরই নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম করে আসছে এই জেমি। তার নির্যাতনের তালিকায় বাদ পড়েনি নিজের বোন, আত্মীয় স্বজন, মুক্তিযোদ্ধা, উকিল, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিরীহ জনমানুষ। প্রাণভয়ে তার অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদের টু-শব্দ করলেই তার ওপর নেমে আসে জেমির অত্যাচারের খড়গ। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় একজন জাতীয় সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে নানা কটুক্তি ও অশোভন মন্তব্য করায় তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত সাইবার ক্রাইম মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকার নির্যাতিত অনেকেই জেমির নানা নির্যাতন, কুকর্মের তথ্য ফাঁস করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে।
শনিবার সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, ইউপি সদস্য দুলাল হোসেন, জেমির চাচা মণিরুজ্জামান, সেলিম, আমেনা, আব্দুল মতিন, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মান্নান রতন সহ এলাকার নির্যাতিত অনেকেই অভিযোগে জানান, নানা এমপি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে নিরীহ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করাই মূলত জেমির প্রধান কাজ। চাঁদাবাজীর এ কাজে জেমি কখনও নিজে বাদী হয়ে আবার কখনও তার কাজের মেয়েদের বাদী করে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষজনকে ফাঁসিয়ে মোটা টাকা আদায় করে হয়েছে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক।
বছরের পর বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সাধারন মানুষদের ফাঁসিয়ে একের পর এক নানা অপরাধ চালিয়ে গেলেও বরাবরই জেমি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। এতে জনমনে প্রশ্নও জেগেছে, জেমির খুঁটির জোর কোথায়? সেইসাথে নির্যাতিত এলাকাবাসী জেমির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবী জানিয়েছে।