শাহজাদপুরে গ্রাহকের কাগজপত্র জাল করে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শাহজাদপুর প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ব্র্যাক ব্যাংক এসএমই শাখার ম্যানেজার কর্তৃক ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আত্মসাতের কৌশল হিসেবে একজন ঋণ আবেদনকারী ও তার স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এবং ভূয়া জমির ক্রয়ের দলিল ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলাধীন পোরজনা ইউনিয়নের ফেচুয়ামারা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ ফকিরের ছেলে নওশাদ ফকির গত বছর শাহজাদপুর ব্রাক ব্যাংক এসএমই শাখায় একটি মিনি ডেইরি ফার্মের নামে ঋণের জন্য আবেদন করে। ঋণ মঞ্জুর হবে এই আশ্বাস দিয়ে শাখার কাষ্টমার রিলেশান অফিসার মো: মাহমুদুল হক জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল দস্তাবেজ এবং ব্লাংক চেক জমা নেন। কিছুদিন পর মাহমুদুল হক নওশাদকে জানিয়ে দেন ব্যাংকের সমস্যা থাকায় তার ঋণ হবে না। এক পর্যায়ে নওশাদ তার কাগজপত্র ও চেক ফেরত চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা সে কাগজ দিতে নানা তালবাহানা করে। এদিকে, গত ২ জানুয়ারী ব্র্যাক ব্যাংকের তিন/চার জন অফিসার নওশাদের বাড়িতে গিয়ে জানান, তার ডেইরি ফার্মের নামে আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ অনাদায়ী রয়েছে। তা অতিসত্বর পরিশোধ করতে হবে। বিষয়টি অফিসার মাহমুদুল হককে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি নওশাদকে বলেন, ‘ওই ঋণের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে ম্যানেজার আত্মসাত করেছেন।’ তিনি নওশাদকে আরও বলেন, ‘আপনি নওশাদ ভাই কোন চিন্তা করবেন না। আমি ম্যানেজারের সাথে কথা বলে সব ঠিক করে দেবো। আপনি কোন আইনের আশ্রয় নিবেন না। কেউ মোবাইল করলে ফোন ধরবেন না।’ এদিকে, বিষয়টির সত্যতা জানতে গিয়ে ব্যা ংক নথিপত্রে নওশাদ দেখতে পায়, নওশাদের ডেইরি ফার্মের নামে তার ও তার স্ত্রী মিনি খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আড়াই লাখ টাকা ঋণ পাশ করা হয়েছে। ঋণের সমর্থনে জমির যে দলিল দেখানো হয়েছে সেখানে ক্রেতা নওশাদের ঠিকানা ও বিক্রেতা সরোয়ার হোসেনের ঠিকানা-গ্রাম জুগ্নীদহ, ডাকঘর : নরিনা, উপজেলা: শাহজাদপুর, জেলা: সিরাজগঞ্জ। যা নওশাদের আসল ঠিকানা হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। আর ওই জমি, মৌজা, দাগ, খতিয়ান এবং বিক্রেতা সরোয়ার হোসেনকে নওশাদ কোনদিন চিনতেনও না এবং চেনেনও না। এটা ব্যাংক ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও কর্মকর্তা মাহমুদুল হক অভিনব কায়দায় জালিয়াতি করেছে। এখানে আরও উল্লেখ্য, দলিলসহ ব্যাংকের সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর আছে ‘নসাদ’। কিন্তু বাস্তবে তার নাম ‘নওশাদ’ এবং তিনি স্বাক্ষরও করেন নওশাদ লিখে। বিষয়টি উল্লেখ করে নওশাদ ইতিমধ্যেই ‘ইন্টারর্নাল কন্ট্রোল এন্ড কমপ্লাইন্স ডিভিশন, ব্রাক ব্যাংক লিমিটেড, অনিক টাওয়ার, ১১ ফ্লোর, গুলশান-১ বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। ব্যাংকে ইনভেষ্টিগেশন চলছে।’ অফিসার মাহমুদুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেন নি। এদিকে, ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাবনা জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.