স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি- ইউএনও শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা


শাহজাদপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতামূলক সভা

শামছুর রহমান শিশির : ‘করোনা ভাইরাসে চীনসহ বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্রে প্রাণহানী ও সংক্রমনের ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের জন্য এখনও ভীতির কিছু নেই। শুধু প্রয়োজন সতর্কতা অবলম্বন ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে কিছু পরিবর্তন।’ শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এমনটিই বললেন, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান নয়ন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় পোতাজিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত এক সচেতনতামূলক সভায় তারা এসব কথা বলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নয়ন ঘন্টাব্যাপী করোনা ভাইরাসের ওপরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায়ই ভালো হয়ে যায়। তবে চল্লিশোর্ধ বয়ষ্ক লোকদের এবং এদের মধ্যে যাদের হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিকস, কিডনি ও লিভার সমস্যা এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস মারাত্বক প্রভাব ফেলে। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, হাঁচি, কাশি, জ্বর, শরীর ম্যাসম্যাস করা এগুলোই প্রধান। তবে, সকল হাঁচি, কাশিই কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকে দুইটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. কোয়ারেন্টাইন ২. আইসোলেশন। কোয়ারেন্টাইন হলো রোগ ধরা পড়ার পর ৭ থেকে ১৪ দিন রোগীকে আলাদা করে রাখা এবং চিকিৎসা দেয়া। আর আইসোলেশন হলো আক্রান্ত ব্যাক্তির কাছ থেকে সুস্থ্য/ তার নিকট জনদের বা অন্য কাউকে আলাদা করে রাখা। যাতে করে সুস্থ্য ব্যক্তিরা আক্রান্ত না হয়।’ এ রোগ থেকে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল বলেন, ‘হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় অবশ্যই সকলকে টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে এবং সেই টিস্যু পেপার নিজের কাছে গচ্ছিত রেখে বাড়ি গিয়ে নিজ দায়িত্বে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রুমাল হলে তা অবশ্যই সাবান পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যেখানে সেখানে কাশি ও থুতু ফেলা যাবে না। বাহির থেকে বাড়ি ফিরলেই সঙ্গে সঙ্গে পোশাক পাল্টিয়ে নিতে হবে এবং সাবান দিয়ে হাত-মুখ বিশেষ করে দুই হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। কারণ, এ রোগ হাতের মাধ্যমেই বেশী ছড়ায়। একজন আরেকজনের সাথে করমর্দনের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়াতে পারে। জনসমাগমে না যাওয়াই ভালো। সরকার ইতোমধ্যেই সব রকমের গণজমায়েত বন্ধ ঘোষণা করেছে। শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালে করা হয়েছে আলাদা ইউনিট। যেখানে আপাততঃ ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা রোগীর জন্য বেড প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে তা আরও বৃদ্ধি করা যাবে।’ ডাঃ নয়ন জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়ন কেন্দ্র নম্বর ১৬২৬৩, হাসপাতালে গঠিত টিম প্রধান আবাসিক কর্মকর্তা ডাঃ রাজীব হাসনাত মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭১৮-৬২৭৬৯৩ এবং ইউএইচএ ডাঃ মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭১১-২৮০৮২৫ এবং পোতাজিয়া হাসপাতালের জরুরী মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭৩০-৩২৪৭২১ জানান দিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘কোন প্রকার শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা-কাশির রোগীর খবর পেলেই তাদেরকে যেনো হাসপাতালে পাঠানো হয়, আপনারা এমনটিই প্রচার করবেন। বিশেষ করে- চীন, ইটালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব প্রবাসী যে কোন ব্যাক্তি এবং এ ছাড়াও অন্য দেশ থেকে যে কোন ব্যাক্তি আপনাদের অঞ্চল বা গ্রামে ফেরৎ এলেই তাদেরকে বাড়ি না গিয়ে প্রথমেই হাসপাতালে চেক আপ নিয়েই তবেই যেন বাড়ি ফেরে এমন পদক্ষেপ এবং এমন প্রচার সবাই করবেন বলে আহবান জানান ডাঃ নয়ন। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।’ তিনি বলেন, ‘পোতাজিয়া হাসপাতালে দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টাই ডাক্তার আছে এবং থাকবে।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে ইনশাআল্লাহ আমরা অনেক নিরাপদে আছি। এ কারণে, যেন কোন ভীতি না ছড়ায় আমরা সবাই সে দিকে লক্ষ রাখবো। তবে, স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সর্বদা সজাগ আছি এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতিও আছে।’
আগামী ১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ উপজেলার সকল এলাকায় ৯ মাস থেকে ১০ বছর প্রয়োজনে ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশু কিশোরদের হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হবে মর্মে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান ডাঃ নয়ন। সেখানে ২’শ ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৩ টি ইউনিয়নের ৩’শ ৩৬টি স্পটে এবং পৌরসভার ৮, শিশু হাসপাতাল ৮ এবং পোতজিয়া হাসপাতালের ৮টি স্পটে এ টিকা দেয়া হবে। উক্ত সচেতনতামূলক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী, আরএমও ডাঃ রাজীব হাসনাত, যুবলীগ নেতা রাশেদুল হায়দার প্রমূখ।