শাহজাদপুরে করোনা টিকা গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে করোনা ভ্যাক্সিন গ্রহণের জনপ্রিয়তা সাধারণ লোকজনের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে। শুরুতে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও এখন অনেকেই টিকা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। টিকাকেন্দ্রে সম্মুখসারির করোনাযোদ্ধাসহ বয়স্ক মানুষের ভিড় বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো অঘটন বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাস মোকাবিলার সম্মুখযোদ্ধাদের সঙ্গে বয়সে প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকটি শ্রেণির নাগরিকরা প্রথম দিকে টিকা পাচ্ছেন। হাসপাতাল ঘুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই মানুষকে টিকা নিতে দেখা গেছে। পুরুষ-নারীদের জন্য করোনাভাইরাসের টিকা দিতে আলাদা বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ৩য় তলায় টিকা প্রদান স্থানে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) শাহজাদপুরে ১১তম দিনে মোট ২ হাজার ৬শ ১৩ জন করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন এবং অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন ৩ হাজার ৮শ ৩০জন। প্রথমদিকে করোনার টিকা গ্রহণে সাধারণ লোকজনের আগ্রহ কম থাকলেও বর্তমানে টিকা নেওয়ার চাহিদা বাড়ছে। প্রত্যান্ত এলাকার লোকজনও আগ্রহের কমতি নেই। প্রথম ধাপে শাহজাদপুরে মোট ১৭ হাজার ৩শ ৯০ টি ভ্যাক্সিনের ডোজ এসেছে।

প্রেসক্লাব শাহজাদপুরের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য টিকার বিকল্প নেই। আমরা যারা সংবাদমাধ্যমে কাজ করি, তাদের টিকা নেওয়া জরুরি। টিকা নিতে হবে সবাইকেই। আমি টিকা নিলাম, আর আপনি নিলেন না, তাতে কিন্তু আমরা নিরাপদ ভাবতে পারি না। আমি ছোটবেলা থেকে অনেক টিকা নিয়েছি। আজকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোনো প্রতিক্রিয়া অনুভূত হল না। মাত্র ৩-৮ সেকেন্ড লাগে। ভয় পাওয়ার কোনা কারণই দেখছি না।

শাহজাদপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ লিয়াকত বলেন, আমি গতসোমবার শাহজাদপুর উপজেলা কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনা প্রতিরোধ ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করি। ভ্যাক্সিন গ্রহণে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রীয়া নেই। সবাই কে করোনা ভ্যাক্সিন গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম দিকে মানুষের মাঝে ঠিকা নেওয়ার ভয় থাকলেও এখন টিকাদানে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিচ্ছেন। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী টিকা নেয়ায় মানুষের মাঝে ভয় ও জড়তা কেটে গেছে। গত দিনের তুলনায় আজ টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। অনেকে হাসপাতালে এসে খোঁজ নিয়ে যাচ্ছেন এবং কীভাবে টিকা নেবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে যাচ্ছেন। সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা টিকা নেয়ায় মানুষ উৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়াও সব শ্রেণির নাগরিকের জন্য টিকা উন্মুক্ত থাকার বয়সসীমা ৫৫ থেকে নামিয়ে ৪০ করার সরকারি সিদ্ধান্ত টিকা গ্রহিতার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা বর্তমান সরকারের আরেকটি সফলতার গল্প। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছি মাত্র।