শাহজাদপুরে ‘এলজিএসপি-৩’এর ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ভাগাভাগি করলেন চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল ও অধ্যক্ষ হায়দার আলী

শামছুর রহমান শিশির, নিজস্ব প্রতিবেদক : জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ৬নং পোরজনা ইউনিয়নের লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-৩ এর ১ম ও ২য় কিস্তির কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যার মধ্যে ‘জামিরতা ডিগ্রি কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ’ কাজের নামে ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার প্রকল্প দেখিয়ে সেখানে ১টি টাকারও কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল ও জামিরতা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলী। ভাগ-বাটোয়ারার মধ্যে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলীকে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দিয়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়ন পত্র নিয়েছেন চেয়ারম্যান মুকুল, এমনটি জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী।
সরেজমিন ঘুরে এবং কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জামিরতা ডিগ্রি কলেজের পূর্ব পাশের টিনের ঘরসহ সবদিকের বাউন্ডারি ওয়ালটি কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে ২০১৭ সালেই সমাপ্ত করা হয়। ওই সময়েই বাউন্ডারি ওয়ালের পাকা কাজের ওপর দিয়ে অধিক নিরাপত্বার স্বার্থে চোকা লোহার রডও স্থাপন করা হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের ওই কাজের প্রকল্প কমিটির প্রধান ছিলেন, কলেজেরই প্রভাষক নিহার রঞ্জন। তার সাথে কমিটিতে আরও ছিলেন, প্রভাষক আব্দুল কাদের, আল-মাহমুদ ও হায়াত আলীসহ আরও কয়েকজন। জানা গেছে, ওই বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের সময় ইট সরবরাহ করা হয় গাড়াদহ ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ইটভাটা থেকে। সিমেন্ট সরবরাহ করা হয় অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলীর সম্বোন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) রওশন আলীর জামিরতা বাজারের দোকান থেকে এবং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন বেড়া উপজেলার জনৈক রাজমিস্ত্রি। খরচের ক্যাশের হিসাব সংরক্ষণের জন্য ক্যাশিয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন প্রভাষক নিহার রঞ্জন। এমন একটি পরিচিত, প্রকাশিত এবং এমসি (ম্যানেজিং কমিটি) তে পাশ হওয়া কাজ সমাপ্তকৃত স্থানে কোন প্রকার কাজ না করে আবার একটি ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার সম্পূর্ণই আত্মসাত করা হয়েছে। আর ওই আত্মসাতের সাথে সরাসরি জড়িত পোরজনা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলী। জামিরতা কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ নামে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সদ্য শেষ হওয়া এলজিএসপি-৩ এর ২য় কিস্তিুর টাকা আত্মসাত করেছেন চেয়ারম্যান মুকুল এবং অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ সঠিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই মর্মে আপনিও প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন এবং প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ হায়দার আলী ১ম দিন জানান,‘কাজ করা হয়েছে, আগেই প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত ছিলো, তা দিয়েছি। তবে আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে নেই।’ পরের দিন আবার যখন প্রতিবেদক জিজ্ঞাসা করেন যে, ওখানে তো অনেক আগেই বাউন্ডারি ওয়াল করা। কেন ভূয়া প্রকল্পে আপনি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন? জবাবে অধ্যক্ষ হায়দার আলী জানান,‘আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। আপনি যা পারেন লেখেন। আমার কলেজের সভাপতি কিন্তু এমপি সাহেব!’ এদিকে, এমপি’র পক্ষে শাহজাদপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শাহু এ প্রতিবেদককে জানান,‘এ ব্যাপারে এমপি সাহেব কিছুই জানেন না। দুর্নীতির টাকা যারা যারা ভাগ বাটোয়ারা করেছেন সে দায়-দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। শুধু তাই না, এমপি সাহেব শাহজাদপুরে এলে এ বিষয়টি আমি নিজেই তার নলেজে দেবো। যাতে করে এ দুর্নীতির সুষ্ঠু বিচারও হয়।’