শাহজাদপুরে ইটভাটায় পুড়ছে টপসয়েল; ফসলি জমি কমছে, জনবসতি বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারী আইন, কানুন, রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে ও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শাহজাদপুরে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে উঠছে এসব ইটভাটা যেখানে আইন কানুনকে কোনরূপ তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ওই অঞ্চলে এসব ইটভাটায় প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে ফসলী জমির উপরের অংশের মাটি টপ সয়েল। ফলে ফসলী জমি ক্রমেই উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে। এতে কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। শাহজাদপুরে ইটভাটায় টপসয়েল পোড়ানোর ফলে ফসলী জমির পিএইচ এর মাত্রা স্থানভেদে কমবেশী হচ্ছে যা কৃষিপ্রধান দেশের জন্য মারাত্বক হুমকিস্বরূপ বলে অভিজ্ঞ কৃষিবিদ অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। অন্যদিকে, যেখানে সেখানে ওইসব ইটভাটা গড়ে তোলা,টপ সয়েল কাট, জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কারণে উপজেলায় প্রতি বছর কমছে আবাদী জমি ও বাড়ছে জনবসতি। ইটভাটা থেকে প্রতিনিয়ত নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড মানবদেহের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকারক হলেও সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে তেমন কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হচ্ছে না।
জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ, কায়েমপুর ও তালগাছী এলাকায় দিনের পর দিন ইটভাটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । এসব এলাকায় ভাটা স্থাপন, ইট শুকানোর স্থান, টপ সয়েল কর্তনকৃত জমিসহ বিপুল পরিমান আবাদী জমি চলে যাচ্ছে এসব ইটভাটার দখলে। আবাদী জমিতে ইটভাটা তৈরি করায় দিনে দিনে আবাদী জমির পরিমান কমছে। অন্যদিকে, টপসয়েল কাটার ফলে ফসলী জমিতে ফসল উৎপাদনের হারও আনুপাতিক হারে কমছে। অনেক স্থানে ইটভাটার কালো ধোয়া পার্শ্ববর্তী জমির ফসলকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। দরিদ্র কৃষকদের অর্থের লোভ দেখিয়ে বিঘাপ্রতি নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে ইটভাটার মালিকেরা ফসলী জমি থেকে আড়াই ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের কৃষকদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে ওইসব ইটভাটার মালিকেরা বিঘাপ্রতি ২৬ থেকে ৩০ হাজার টাকায় আড়াই ফুট গভীর করে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে। অনেক স্থানে আবার তিন সাড়ে তিন ফুট গভীর করেও মাটি কাটা হচ্ছে যা ফসলী জমির জন্য হুমকিস্বরূপ। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি একর জমি থেকে মাত্র ৫৬ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা টপসয়েল ক্রয় করে নিচ্ছে। ফসলী জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরা শক্তি মারাত্বকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ইতিমধ্যেই এলাকার জমিতে আউশ, আমন, ইরি, বোরোসহ নানা ফসলের উৎপাদনের হার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে গতকাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খাইরুল আলমের (অবঃ) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,‘ উন্নত বিশ্বের ফসলী জমিতে বিভিন্ন ধরনের সুষম রাসায়নিক সার অতি মাত্রায় ব্যবহারে জমিতে পিএইচ এর মাত্রা নিউট্রালে না থেকে স্থানভেদে কম বা বেশী হচ্ছে যা জমির জন্য ক্ষতিকর। টপ সয়েল না কেটে জমিতে বেশী বেশী পরিমানে জৈবসাব ব্যবহার করা হলে পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষার পাশাপাশি জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাবে ও ফসল উৎপাদন বেড়ে যাবে। পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের পুষ্টিগ্রহনের ক্ষমতাও বেড়ে যাবে ও রোগবালাই অনেক কমে যাবে বলে। এজন্য অবিলম্বে ইটভাটাগুলোতে টপসয়েলের ব্যবহার নিষিদ্ধ অতীব জরুরী বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।’