শাহজাদপুরে ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে ৬’শ বিঘা জমির ধান পুড়ে চিটা!

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও মাটির স্তরের প্রচন্ড তাপে শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৬’শ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। ফলে পাঁকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। ইটভাটা বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে তারা ফুঁসে উঠেছে। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা ওই এলাকায় ইট আনা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিকারে তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছে ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, জেআরসি ব্রিকস্ এর স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম আকমল কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি উপেক্ষা করে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ায় শত শত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও ভাটা মালিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আজ শুক্রবার সকালে কায়েমপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আলহাজ্ব আলতাব হোসেন, আবু হাসান, গোলাম ফারুক,আব্দুর রাজ্জাক, মোজাহারুল ইসলাম, সরোয়ার হোসেন, আব্দুর রশিদ, মতিয়ার রহমান, অজিত কুমার দাস, রণজীত কুমার দাস, মানিক মিয়া, তোফাজ্জল, মানিক সরদার, বাবু মোল্লা, ইদ্রিস, গোপালসহ অর্ধশতাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘ সরকারী রীতি-নীতি ও আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কৃষি জমি ও বসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি ইটভাটায় ইটভাটা স্থাপন করে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর, ব্রজবালা, গোপিনাথপুর, বাতিয়ার পাড়া, বিলএরিল ও হলদিঘর এলাকায় রোপিত প্রায় ৬’শ বিঘা জমির ধান ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও তাপে পুড়ে গেছে । পুড়ে যাওয়া কাঁচা ধানের শীষে চিটে পড়েছে ও কালচে রূপ ধারণ করায় তাদের বুকভরা আশা পরিণত হয়েছে হতাশায়। শুধু চলতি বছর নয়, প্রতি বছরই তাদের এ ধরনের ক্ষতি হলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় তারা এবার শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।’ তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে আরও জানান, ‘ইটভাটার কালো ধোঁয়া শুধু ধানেরই ক্ষতি করেনি, এলাকার ফলবান বৃক্ষের ফলগুলোকেও নষ্ট করে দিয়েছে এবং পরিবেশকে দূষিত করছে। এজন্য তারা অবিলম্বে ওইসব ইটভাটা বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের জোর দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তারা কায়েমপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাসিবুল হক হাসানের নিকট অভিযোগ করেছেন।’ এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান হাসিবুল হক হাসান জানান, ‘শত শত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক তার নিকট সুবিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সকল ইউপি সদস্যদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরী বৈঠক আহবান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের স্বার্থে সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ অপরদিকে, শত শত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি উপেক্ষা করে জেআরসি ব্রিকস্ কর্তৃপক্ষ ইট তৈরি অব্যাহত রাখার ঘোষণায় উভয় পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার শংকায় এলাকাবাসী বিচলিত হয়ে পড়েছে।