অবৈধভাবে বালু উত্তোলন; ৭ ড্রেজার পুড়িয়ে দিলেন ইউএনও


শাহজাদপুরে ভাটপাড়া ও জগতলা পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবী

শামছুর রহমান শিশির : আজ শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত শাহজাদপুর উপজেলার ৩ স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ৭ ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দেয়। উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের হলদার পাড়া পুকুর ও হুরাসাগর নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে মর্মে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ৩ স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত এ অভিযান চালায়। এ সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা জানান, ‘একটি প্রতাপশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। প্রতাপশালী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ওই চক্রের দৌরাত্ব বন্ধ করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। যেখানেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান চালানো হবে। এজন্য এলাকাবাসীর সহযোগীতা কামনা করেন ইউএনও।’
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সোনাতনী, কৈজুরী, গালা ও পোরজনা ইউনিয়নের যমুনা, হুরাসাগর নদীসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। যমুনা নদী তীরবর্তী ভাঙ্গণ কবলিত এলাকাও বাদ পড়ছে না ওই চক্রের হাত থেকে। উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ভাটপাড়ার কয়েকজন মহল্লাবাসী অভিযোগে জানান,‘যমুনা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধের ভাটপাড়া ও জগতলার যে স্থান যমুনার ভাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেই স্থান থেকেও অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গণ আতংকে ভূগছে এলাকাবাসী। যমুনা ও হুরাসাগর নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছে এলাকাবাসী।
অপরদিকে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ৭ ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়ায় শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহাকে সাধুবাদ জানিয়ে যমুনার ভাঙ্গণ কবলিত ভাটপাড়া ও জগতলা এলাকায় এখনও চলমান অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী ।

মন্তব্য