শাহজাদপুরের বেলতৈল ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে অ-মুক্তিযোদ্ধার সংখ্য দ্বিগুণ

শাহজাদপুর প্রতিনিধি: শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে অ-মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দ্বিগুণ বলে বলে জানা গেছে। ওই ইউনিয়নের ১১ জন অ-মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করছে এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, ওই ১১ জন অ-মুক্তিযোদ্ধাদের একজন ইউনিয়ন কমান্ডার আবার এদের একজন উপজেলা কমান্ডের সদস্য বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগে জানায়, শাহজাদপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মৃত জামাত আলী শেখের ছেলে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বাহাদুর আলী একজন অ-মুক্তিযোদ্ধা। তার গেজেট নং-১৬৪৪, মুক্তিবার্তা নং-০৩১২০৪০২৬৮, সাময়িক সনদ নং- ম-৬৯২৬১ তারিখ০১/০২/০৫ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি গত ২০০২-০৩ অর্থ বছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চরবেলতৈল গ্রামের মৃত রহমতুল্লাহ সরকারের ছেলে গাজী মিজানুর রহমানের গেজেট নং-১৭৩৩, প্রকাশের তারিখ : ৪ ডিসেম্বর-২০০৪ খ্রি., মুক্তিবার্তা নং-০৩১২০৪০০২৮, সাময়িক সনদ নং- ১৩২০২, তারিখ-০৯/০২/২০০৩ খ্রি.। তিনি নিজে অ-মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা কমান্ডের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ২০০২-০৩ অর্থ বছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। অভিযুক্ত অন্যান্য অ-মুক্তিযোদ্ধারা হলেন, উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের লালচার সরকারের ছেলে মো: আব্দুস সালাম, গেজেট নং-১৬৫৯, মুক্তিবার্তায় নাম নেই, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদপত্র নং- ম-১১৩৪৯৬, তিনি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। শিবরামপুর গ্রামের মৃত আফতাবউদ্দিন সরকারের ছেলে মো: আব্দস সাত্তার, গেজেট নং-১৭৯৬, মুক্তিবার্তা নং- ০৩১২০৪০২৬৬৬, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদ নং- ১১৫৯৫৫,তারিখ- ০৫/০৪/০৬ খ্রি., তিনি ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। ঘোষ শ্রীফলতলা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মনছুর রহমান, গেজেট নং-১৮১১, মুক্তিবার্তায় নাম নেই, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদপত্র নং- ম-২৯৮২৫, তারিখ : ০৭/০৭/০৩ খ্রি., তিনি ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহণ করছেন। শিবরামপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী সরকারের ছেলে আব্দুল করিম (পুলিশ), গেজেট নং-১৮৯৭, মুক্তিবার্তা নং-০৩১২৯৪২৮৬, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদপত্র নং- ম-৩৩৭৪৫, তারিখ-২২/১১/২০০০ খ্রি, ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। শ্রীফলতলা গ্রামের মৃত আবু তালেব সরকারের ছেলে মো: আব্দুর রশীদ, গেজেট নং ২৭৯৫, মুক্তিবার্তায় নাম নাই, সনদ নাই, তিনি-২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। ঘোষ শ্রীফলতলা গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র মো: জহুরুল হক, গেজেট-২৮৮৫, মুক্তবার্তায় নাম নেই, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদ নং- ম- ১৭১৬৩৪, তিনি ২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। শ্রীফলতলা গ্রামের মৃত হায়দার আলী সরকারের ছেলে মো: আফসার আলী, গেজেট নং- ২৮৮৬, মুক্তিবার্তায় নাম নাই, মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদ নং-১৭১৬৩৫, তিনি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। ঘোষ শ্রীফলতলা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো: আলাউদ্দিন, গেজেট নং-২৯০২, মুক্তিবার্তায় নাম নাই, মন্ত্রনালয়ের সনদ নং- ম-১৭৮০০৯, তিনি ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ভাতা গ্রহন করছেন। শিবরামপুর গ্রামের মৃত মেছের প্রামানিকের ছেলে মো: মোজোফফর প্রামানিক, গেজেট নং-২৯১৪, মুক্তিবার্তায় নাম নেই, মন্ত্রনালয়ের সনদ নং- ম-১৭৭৩২৫, ২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে তিনি ভাতা গ্রহন করছেন।
অভিযুক্ত এসব অমুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ গ্রামের এলাকাবাসী এবং এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, এদের কেউই মুক্তিযোদ্ধা নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য কোন প্রশিক্ষণ নেননি। কোন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তারা কোথাও কোন যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি। এমনকি যুদ্ধ শেষে অস্ত্র জমা দিয়েছেন এমন প্রমানও নেই। তারা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সনদ বানিয়ে, সংগ্রহ করে, মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগসাজসে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তাদের যাচাই বাছাইয়ের আওতায় এনে তাদের জালিয়াতি জনসম্মুখে অবিলম্বে প্রকাশের জন্য অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.