শাহজাদপুরের জামিরতা ডিগ্রি কলেজে অসুস্থ্য হলেই চাকুরী হারানো ভয় শিক্ষক-কর্মচারীদের!

শামছুর রহমান শিশির : যে কোন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত করা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে। কলেজ পর্যায়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষকদের এবং স্কুল পর্যায়ে সহ-প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক ও জুনিয়র শিক্ষকদের শিক্ষক পর্যায়ে আর হিসাবরক্ষক, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী, পিয়ন, নৈশপ্রহরীসহ আরও ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির যে সকল কর্মচারী থাকেন তারা সবাই কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন। আর তাদের সবারই অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত হন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক। মানবদেহে রোগ ব্যাধির উপস্থিতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কোন রোগ দুরারোগ্য আবার কোন রোগ আরোগ্য যোগ্য রোগ। বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের রোগমুক্তির প্রধান ঔষধ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের আন্তরিকতা ও যোগানো সাহস বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তার পাশাপাশি চিকিৎসা। একইভাবে, কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ কোন রোগে আক্রান্ত হলে তারও প্রধান ঔষধ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সহযোগীতা ও সাহস রোগাক্রান্ত’র মনোবল সতেজ রাখে। পাশাপাশি নিরাময়ে কাজ করে চিকিৎসা।
পক্ষান্তরে, প্রদর্শিত এরূপ মানবতা, সাহস যোগানো আর সহমর্মিতার বাণীর সম্পূর্ণ উল্টো ভূমিকায় অবতীর্ণ শাহজাদপুরের জামিরতা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হায়দার আলী। তার এরূপ বিপরীত আচরনের কারণে জামিরতা ডিগ্রি কলেজের কোন শিক্ষক বা কর্মচারী অসুস্থ্য হলে আক্রান্ত ব্যক্তি চাকুরী হারানোর ভয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুঃশ্চিন্তায় ভূগতে থাকেন, কখন যে তার স্থলে বিধিবহির্ভূতভাবে একটি পদ সৃষ্টি করে অনৈতিকতার সুযোগ নিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগ দিয়ে বসেন।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ,‘ওই কলেজের আব্দুল লতিফ নামের জনৈক পিয়ন কলেজে চাকুরীরত থাকাবস্থায় অসুস্থ্য হয়ে বেশ কিছুদিন রোগে ভূগে চলতি বছরের ১লা ফেব্রুয়ারি মারা যান। পিয়ন আব্দুল লতিফ অসুস্থ্য থাকাবস্থায়ই তার পদে সেলিম নামের অপর একজনকে সৃষ্ট পদে নিয়োগ দেন অধ্যক্ষ হায়দার আলী যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। এ নিয়োগের বিষয়টি কলেজে কর্মরত অধ্যক্ষের অন্ধ সমর্থকেরা ছাড়া কলেজ সম্পৃক্ত অনেকেই এবং এলাকাবাসী মোটেও ভালোভাবে গ্রহন করেননি। অসুস্থ্য পিয়ন আব্দুল লতিফ বিষয়টি জানতে পেরে মানষিকভাবে আরও অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে মারা যান। এ ঘটনায় লতিফের পরিবারের সদস্যদেরও মারাত্বক মানবিক বিপর্যয় ঘটে যা সহজেই অনুমেয়। কোন প্রতিষ্ঠানের ৩য় বা ৪র্থ শ্রেণির কোন কর্মচারী বা কেউ অসুস্থ্য থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানের কাজের যদি কোন সমস্যা হয়, তবে সেখনে দিন হাজিরায় (মাষ্টাররোল) চাকুরী দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ হায়দার আলী কর্তৃক তার কলেজের পিয়ন আব্দুুল লতিফের জীবদ্দশায়ই ওই পদে অসুস্থ্যতার সুযোগ নিয়ে সৃষ্টপদে সেলিমকে চাকুরী দেয়া যা স্থায়ী চাকুরী দেয়ারই নামান্তর বটে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেরই অভিযোগ,‘সৃষ্ট ওই পদে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেলিমকে চাকুরী দেয়া হয়েছে এবং পিয়ন আব্দুল লতিফের মৃত্যুর পর এমপিওভূক্ত ওই পিয়ন পদটিতে সেলিমকেই স্থায়ীভাবে চাকুরী দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ হায়দার আলী ইতিমধ্যেই সেলিমের কাছে আরও টাকা দাবি করেছেন। অধ্যক্ষের এরূপ আচরনের কারণেই কলেজের কর্মচারীরা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষকগণ অসুস্থ্য হলেই চাকুরী হারাতে হবে-এ দুঃশ্চিন্তায় সর্বক্ষণ ভূগছেন। কিন্তু, হায়! অসুস্থ্যতা তো কাউকে সিগন্যাল দিয়ে আসবে না, আর অসুস্থ্য হলেই চাকুরীর কি হবে সে ভাবনাও তো শাহজাদপুরের জামিরতা ডিগ্রি কলেজে কর্মরতদের পিছু ছাড়বে না।’
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ হায়দার আলী তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘২০১৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সৃষ্টপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গর্ভনিং বডি যতখুশি পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দিতে পারে।’