Featuredশাহজাদপুর

শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম দূর্ণীতি (ভিডিও)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নে ঈদুল আযাহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসি।

এ বিষয়ে কৈজুরি গ্রামের শহীদ প্রামাণিক, পাথালিয়াপাড়া গ্রামের সজিব হোসেন, চান প্রামাণিক, চরকৈজরি গ্রামের মমিন খান, গোপালপুর ও গ্রামের মনো সরকার, পাঁচিল গ্রামের হেকমত আলী, জয়পুরা গ্রামের নূরুজ্জামান, গুপিয়াখালি গ্রামের সিদ্দিক স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে মৌখিক অভিযোগে বলেন, গত ২৭ জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কৈজুরি বাজারের সাইফুলের গুদাম থেকে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের ৮ হাজার ২২৯ জন হতদরিদ্রদের মাঝে ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি করে ৮২.২৯০ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু হয়।

এ বিতরণ শুরুর পর দুপুর ১২টা পর্যন্ত রিলিফ অফিসার শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান একই ব্যক্তির বার বার চাল উত্তোলন বন্ধ করতে চাল উত্তোলনকারীদের হাতের আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেন। এতে একই ব্যক্তির বার বার চাল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তাকে একই ব্যক্তি ১০/১২টা স্লিপ নিয়ে এলেও চাল দিয়ে দিতে বলেন। এতে তিনি রাজি না হলে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এ দিন সকাল সাড়ে ১০টারদিকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি চেয়ারম্যানের কথা না শুনে তার দ্বায়ীত্ব পালন করতে থাকেন।

সকাল ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদে চলে যান। দুপুর ১২টার দিকে পূর্বের স্মারকেই তার কায়েমপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ পত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন। অথচ এর ৩ দিন আগে ওই একই স্মারকে তাকে কৈজুরি ইউনিয়নে রিলিফ অফিসার হিসাবে দায়ীত্ব পালনের জন্য পত্র দেওয়া হয়। তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর একজন ইউপি সদস্যের নের্তৃত্বে ভিজিএফের চাল চুরির মহোৎসব শুরু হয়।

দেখা যায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাড়া করা কিছু যুবক ও কিশোর বার বার চাল তুলে কৈজুরি কবরস্থান সংলগ্ন ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য শুকুর আলীর বাড়িতে রাখা হয়। এর পর এ চাল ওই এলাকার সেলিম চৌধুরী নামের একজন কিনে নেয়।

স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে এ দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও প্রচার করায় সোনা মিয়া নামের এক স্থানীয় সাংবাদিককে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে গালিগালাজ করে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপরেও বুধবার পর্যন্ত প্রকাশ্য ভাবে একই কায়দায় ভিজিএফের এ চাল চুরি ও পাচারের মহোৎসব চলে।

এলাকাবাসির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বারবার ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও রহস্যজনক কারণে তারা কোন ব্যবস্থা নেননি।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রিলিফ অফিসার শাহজাদপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন,আমি শতভাগ সততার সাথে কাজ করছিলাম। চেয়ারম্যানের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি রা হওয়ায় আমাকে সেখানে কর্মরত অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে পূর্বেও স্মারকেই কৈজুরির স্থলে কায়েমপুর ইউনিয়নে দায়ীত্ব পালনের জন্য পত্র দেওয়া হয়। আমি কায়েমপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালনে অপারোগতা জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

এ বিষয়ে কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে কোন অনিয়ম দূর্ণীতি হয়নি। শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রিলিফ অফিসার কামরুজ্জামানের বাড়ি কৈজুরি গ্রামে হওয়ায় তাকে ওখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর নির্বাহী অফিসার শাহ মো: শাহসুজ্জোহা বলেন, কৈজুরি ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় নেওয়া হবে।

 

সূত্রঃ আজকের জাহান

একই বিভাগের সংবাদ

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: