শাহজাদপুরের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মানিকের ৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর শাহজাদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে দায়েরকৃত মামলায় শাহজাদপুরের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মানিক সরকারের ৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ বহাল রেখেছেন বিজ্ঞ আদালত । সেইসাথে তার মঞ্জুরীকৃত জামিনও বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মানিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত । জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানাটি শাহজাদপুর থানায় এসে পৌছেছে । শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে গতকাল ( বুধবার ) রাতে সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ খাজা গোলাম কিবরিয়া। শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর শাহজাদপুর থানায় মানিক সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ) ধারায় দায়েরকৃত মামলায় ( মামলা নং-০৫ ) কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মানিকের ৪ বছরের কারাদন্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। সেইসাথে তার মঞ্জুরীকৃত জামিনও বাতিল করেছেন বিজ্ঞ আদালত। সেইসাথে তাকে গ্রেফতারের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মানিক ও তার পিতা রতন সরকারের বিরুদ্ধে থানায় অসংখ্য মামলা থাকলেও জামিনে এসে তারা দীর্ঘদিন ধরে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো। গত ১৯৯৬ সাল থেকে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন পৌর মার্কেট চালু হবার পর থেকে রতন সরকার ও তার ছেলে মানিক সরকার মার্কেটের পশ্চিম পাশ থেকে ১ নম্বর গলির ৫ টি কক্ষ ও ২ নম্বর গলির শাকিলের চায়ের দোকানের সামনের ৩ টি কক্ষে বাংলামদ মজুদ করে মজো, স্প্রিরিট ও ম্যাটাডোর কলমের এজেন্সির অন্তরালে মদ বিক্রি করে আসছে। গত ১১ জানুয়ারি বুধবার সাংবাদিক নেতা, বিশিষ্ট কলামিষ্ট, কবি, সাহিত্যিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার শাহজাদপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত গণশুনানীতে মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম, মাদক বিক্রেতা মানিক সরকার ও মাদক বিরোধী নানা অভিযোগ করলে মানিকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওইদিন রাতেই সাংবাদিক নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার বাদি হয়ে মানিক সরকারসহ ১৪ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় দ্রুতবিচার আইনে মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই আব্দুল জলীল ঘটনার তদন্তঅন্তে বিজ্ঞ আদালতে মানিক সরকার, তার পিতা রতন সরকার, ম্যানেজার অসীম চন্দ্র, বাবুল শেখ, আল মামুন ওরফে বিপুল, সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বাবু, সাদ্দাম শেখ, সবুজ শেখ ও তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোফাকে অভিযুক্ত করে গত ২৬ জানুয়ারী বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্র সূত্রে প্রকাশ, থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসামী মানিক সরকারের বিরুদ্ধে থানায় অসংখ্য মামলা রয়েছে। এগুলো হলো শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-২৮, তারিখ : ২৯/১২/১৫ ইং, ধারা-১৪৩ /৩৪১ /৩২৩ /৩২৬ /৩০৭ /৫০৬ /১১৪ পেনাল কোড, শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-২৬, তারিখ : ১৯/১০/১৫ ইং, ধারা-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ), শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-০১, তারিখ : ০১/১০/১৫ ইং, ধারা-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ), শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-০৫, তারিখ : ০৫/১১/২০০৯ ইং, ধারা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ), শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-০৯, তারিখ : ০৮/০৬/২০০৮ ইং, ধারা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ), শাহজাদপুর থানার এফআইআর নং-১৬, তারিখ : ১৯/১১/২০০৭ ইং, ধারা ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ২২ (গ)। সর্বশেষ সাংবদিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশারের বাড়িতে হামলার ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের হয়। এত মামলা থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মানিক সরকার। মাদকের ভয়াবহতা থেকে শাহজাদপুরকে রক্ষায় এলাকাবাসী অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছে।  আসামীকে গ্রেফতারের ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ  জানান “মাদকের জিরো টলারেন্স দেখতে চাই”।