শাহজাদপুরের কাপড় হাটে ইদুল ফিতর উপলক্ষে ২০০ কোটি টাকার শাড়ি-লুঙ্গী বিক্রি

মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান: ইদুল ফিতর উপলক্ষে গতকাল বুধবার শাহজাদপুর কাপড় হাটে ৩০০ কোটি টাকার তাঁতের শাড়ি লুঙ্গী বেচা-বিক্রি হয়েছে। এ বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ বেচা-বিক্রি বলে হাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। এই ব্যাপক বেচা-বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শাহজাদপুর উপজেলা সহ পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১৬ উপজেলার তাঁত কারখানা গুলো ব্যস্ত সময় পার করছে। রাত দিন এক ভাবে চলছে তাঁতের শাড়ি-লুঙ্গী তৈরীর কাজ। ফলে তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের এখন চোখে ঘুম নেই। তারা ব্যস্ত ঈদুল ফিতরের বাজার ধরতে। তাই দিন রাত তাঁত পল্লি গুলোতে চলছে তাঁতের খট খট শব্দ। শাহজাদপুর উপজেলা সহ পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার তাঁতের তৈরী শাড়ি-লুঙ্গী, গামছা, ওড়না, থ্রি-পিস ও প্রিন্ট শাড়ি এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভারতে এর ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেচা-বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ। তাঁতীরা তাই আগের চেয়ে এখন আরো বেশি ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।
দেশের সব চেয়ে বড় পাইকারী  তাঁতের শাড়ি-লুঙ্গীর হাট সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর বাজারে অবস্থিত। তাই এ হাটে শুধু দেশীয় পাইকাররাই নয় ভারত থেকেও অসংখ্য পাইকার আসে শাহজাদপুরের এ কাপড়ের হাটে শাড়ি-লুঙ্গী পাইকারী কিনতে। সব সময় শাহজাদপুরের তাঁতের শাড়ি ও লুঙ্গীর নকশা ও বৈচিত্রে ভিন্নতা থাকায় ক্রেতারা এখানকার শাড়ি-লুঙ্গী বেশি পছন্দ করে। তাই ক্রেতাদের মাঝে এখানকার শাড়ি-লুঙ্গীর চাহিদা একটু বেশি হওয়ায় এর বেচা-বিক্রিও অনেক বেশি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি সংলগ্ন শাহজাদপুরের এ কাপড়ের হাটের সুনাম এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ভারতের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ভারতীয়দের পছন্দ উপযোগী করে শাড়ি-লুঙ্গী তৈরীতে তাঁতীরা মহা ব্যস্ত সময় পার করছে। জানা গেছে ঈদের আগ পর্যন্ত এ ভাবেই বেচা-বিক্রি চলবে।
তাই শাহজাদপুরের পুরুষ তাঁত শ্রমিকদের ব্যস্ততার পাশাপাশি নারী তাঁত শ্রমিকের ব্যস্ততাও বেড়েছে। পুরুষ শ্রমিকরা বাহারী ডিজাইনের শাড়ী, লুঙ্গি, গামছা, থ্রীপিস, ওড়না, প্রিন্টের শাড়ী তৈরীর কাজে ব্যস্ত। আর নারী শ্রমিকরা তাদের এ কাজের জোগান দিতে চরকায় সুতা ভড়া, রং করা,পাড়ি করা ও শাড়িতে স্ক্রীন প্রিন্টের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
শাহজাদপুর পৌর এলাকার চুনিয়াখালী পাড়ার তাঁত মালিক বুলবুল হাজী বলেন, বৈশাখের ব্যস্ততা কাটিয়ে ইদুল ফিতরকে ঘিরে তাঁতীদের আরো বেশী ব্যস্ততা বেড়েছে। আমার ফ্যাক্টরির কাপড়ের গুনগত মান ভাল হওয়ায় বরাবরই চাহিদা একটু বেশি। হাটে তোলার আগেই বেপারিরা বাড়ীতে এসেই তাঁতপন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
রামবাড়ীর তাঁত মালিক মোজমাল হোসেন বলেন, এ সময়ে কাজের চাপ এতো বেশি থাকে যে, এ চাহিদা পূরণে প্রয়োজন মত তাঁত শ্রমিক পাওয়া দূরুহ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নিত্য নতুন ডিজাইনের কাপড় তেরী হচ্ছে। অথচ সে অনুযায়ী শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দেশবাসির চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দ্বারিয়াপুরের সিরাজুল ইসলাম জানান, আমার ছোট ফ্যাক্টরিতেও শাড়ি-লুঙ্গীর চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। ধান কাটা শেষ হওয়ায় কৃষকদের হাতে নগদ টাকা-পয়সা থাকায় পরিবারের চাহিদা পূরণে কেনাকাটায় ধুম পড়েছে। ফলে বেচা-বিক্রিও বেড়ে গেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। রূপপুর ট্ইুষ্টিং মিলের নারী শ্রমিক নাসরিন জানান, কাজ বেড়ে যাওয়ায় রোজা থেকে তাদের কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। তার পরেও মালিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেশি করে কাজ করছি। এতে আমরাও বেশি মজুরী পেয়ে খুশি হয়েছি। এতে আমাদের সংসারের অভাব অনেকাংশে দূর হয়ে গেছে।