শাহজাদপুরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চান ইউটিউবার শাহরিয়ার

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের নাম মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। তবে এখানে ঘুরে দেখার মতো আকর্ষণীয় অনেক জায়গা রয়েছে সেটি অনেকেই জানেন না। শাহজাদপুরের ছেলে শাহরিয়ার সাজন ইতিমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা। তিনি চান তার জন্মস্থানকে পর্যটনস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।

শাহরিয়ারের ভ্রমণ জীবনের শুরু, শাহজাদপুর নিয়ে তার পরিকল্পনা ও ভালো লাগা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন শাহজাদপুর ডট কমের সঙ্গে-

ভ্রমণের শুরু কীভাবে?

ছোটবেলা থেকেই আমি ভীষণ চঞ্চল প্রকৃতির ছিলাম। ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগতো সব সময়। সুযোগ পেলেই পরিবারের সাথে বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে যাওয়া হতো। তখন থেকেই ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। নেশা খুব ক্ষতিকর, কিন্তু ভ্রমণ এমনই এক নেশা যা কখনো কোনো মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে না। ভ্রমণ করতে আমার পরিবারের সবাই অনেক ভালোবাসে। মূল অনুপ্রেরণা আসলে তাদের থেকেই পাওয়া। সেই সময় ফিল্ম ক্যামেরার যুগ ছিলো। মানুষের হাতে হাতে মুঠোফোন তখন ছিলো না। মাঝে মাঝে অ্যালবাম বের করে যখন ভ্রমণের ছবিগুলো দেখতাম তখন সেই সময়টাতে যেন আবার ফিরে যেতাম। যুগের সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটেছে। এখন অনেক উন্নত মানের গ্যাজেটস আইটেমস বা ভালো মানের ক্যামেরা, মোবাইল কমবেশি সবার কাছেই আছে। তাই ভ্রমণের স্মৃতিগুলো আরো ভালোভাবে সংরক্ষণে রাখতেই মূলত ইউটিউবে আসা। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার ভ্রমণ ভিডিও মাঝে মাঝে মন চাইলে আমিই শুধু দেখবো অন্য কেউ দেখে সেগুলো এতো উপভোগ করবে তা কল্পনাও করিনি। কিন্তু একটা সময় যখন দেখলাম মানুষ এগুলো দেখে বেশ উপভোগ করছে এবং সুন্দর সুন্দর কমেন্টস করছে, তখন থেকে ইউটিউবিং এ আরো সিরিয়াস হই আর সেই থেকে শাহরিয়ার আফিসিয়াল নামে চ্যানেলটি পরিচিতি পায়।

 

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আমার বেড়ে ওঠা শাহজাদপুরেই। মানুষের জীবনে চাঞ্চল্যকর যে সময়টি থাকে মানে ছোটবেলা সেটা এখানেই কেটেছে। ক্লাস ৫ পর্যন্ত এখানে পড়ার পর ঢাকায় চলে আসা। তারপর ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা।

শাহজাদপুরে দেখার মতো আকর্ষণীয় জায়গা ও এখানকার বাণিজ্য নিয়ে কিছু বলুন-

শাহজাদপুরের বিশেষ একটি ব্যাপার হচ্ছে এখানে যদি কেউ ঘুরতে আসে তাহলে একসাথে অনেকগুলো জায়গা দেখার সুযোগ পাবে। যেমন- শাহ মখদুম মাজার, রবীন্দ্রনাথের কাছারি বাড়ি, বাঘাবাড়ি সি-পোর্ট, বেলকুচির আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ, হাবিবুল্লাহ বাবার মাজার, করতোয়া নদীতে নৌ-ভ্রমণ, মিল্কভিটা, রেশমবাড়ি সহ আরো বেশ কিছু জায়গা তবে সেগুলোর নাম এখন বলবো না তাহলে ভিডিওর সারপ্রাইজটা নষ্ট হয়ে যাবে।


আমি জন্মের পর থেকেই দেখেছি আমার বাবা-দাদা সবাই কাপড়ের ব্যবসায়ী এবং আমাদের নিজস্ব কাপড়ের ফ্যাক্টরি “প্রথম আলো শাড়িঘড়” বেশ নামকরা ছিলো। তবে সময়ের সাথে সাথে তাঁতশিল্প এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। অনেকটাই বিলুপ্তর পথে। তাঁত বুনানোর সময় যে শব্দ হয় সেটা আগে প্রায় প্রতিটা অলিগলিতেই পাওয়া যেতো কিন্তু এখন হাতে গোনা কয়েকটি জায়গা ছাড়া আর পাওয়া যায় না। সপ্তাহে দুই দিন এখানে কাপড়ের হাট বসে। এখনও এটি শাহজাদপুরের ঐতিহ্যকে বহন করে। প্রতি হাটেই শত শত মানুষের ভিড় জমে এবং দূর দূরান্ত থেকেও তাঁতের শাড়ি,লুঙি কিনতে বা বিক্রি করতে এখানে মানুষ আসে।

ঢাকা থেকে শাহজাদপুরে কীভাবে আসা যায়?

দুইভাবে ঢাকা থেকে শাহজাদপুরে আসা যায়। এক, আরিচাঘাট হয়ে, দুই, সিরাজগঞ্জ রোড হয়ে। আরও কয়েকভাবে আসা যায় (শর্টকাট রাস্তা) তবে সেটি সবার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে।