কোভিড-১৯ মোকাবেলা করতে পারছিনা, আবার আসছে হান্টা


রাজ জ্যোতিষীর গল্প

ফাইল ছবি

বৈশাখ মাস নতুন বছরের আগমন ঘটবে। রাজদরবারে ডাক পরলো রাজ জ্যোতিষীর। রাজা জ্যোতিষীকে বললেন, জ্যোতিষী গননা করে দেখতো সামনের বছরটা কেমন যাবে। জ্যোতিষী চোখ বন্ধ করে কিছু ধ্যানমগ্ন থেকে চোখ খুলে রাজার মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু বলতে থাকলো- রাম রাম রাম। রাজা বললেন, শুধু রাম রাম করছো কেন? যা বলার পরিস্কার করে বলো। জ্যোতিষী রাজাকে বললো হুজুর ভয়ে নাকি নির্ভয়ে বলবো। রাজা বললেন নির্ভয়ে বলো।
তখন জ্যোতিষী বললো-

“আকাশ থেকে নামবে বারি,
সেই বারি যার গায়ে পড়বে
সবাই হবে পাগল-
কাউরে দেবেনা ছারি”

রাজা নির্দেশ দিলেন রাজ প্রাসাদ এলাকায় ত্রিফল টানানোর ব্যবস্থা করো। রাজ পরিবারের সকল সদস্য প্রাসাদে ঢুকে যাওয়াসহ এবং রাজ কর্মচারী সহ রাজদরবাবের সবাইকে ত্রিফলে নীচে আশ্রয় নিতে নির্দেশ দিলেন। তারা তাই করলো।

পহেলা বৈশাখে আকাশ থেকে বারিপাত শুরু হলো। বারিবিন্দু জনতার গায়ে পড়লো। এই শুভ বারিপাতে রাজ্যের নারী পুরুষ কিশোর যুবা তারা সবাই আনন্দমুখর হয়ে নাচতে শুরু করলো। এক পর্যায়ে তারা নাচতে নাচতে রাজ প্রাসের সামনে এলো। তারা রাজাকে এবং রাজদরবারের সবাইকে তাদের নাচে সাথে অংশ গ্রহনের আহ্বান জানালো। রাজাতো হতবাক। তিনি রাজ প্রাসাদের ছাদে উঠে নাচের দৃশ্য দেখতে থাকলেন। ভাবলেন রাজ্যের সবাই পাগল হয়ে গেছে। রাজা তখন তার রাজন্যবর্গ যাতে পাগল না হয়ে যায় সে জন্য সবাইকে আরো নিরাপদ অন্তরালে যাবার নির্দেশ দিয়ে, নিজেও লোক চক্ষুর আড়ালে চলে গেলেন।

দেশে এলো করোনা ভাইরাস। দেশের মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার মাঝে ঠেলে দিয়ে রাজন্যবর্গ নিরাপদের আশ্রয়ে কোয়ারেন্টাইনে চলে গেলেন। কিন্তু সেখানেও তাঁরা রক্ষা পাচ্ছেন, পাবেন, নিঃশ্চিত করে তা বলা যাচ্ছেনা। কিন্তু কায়িক প্ররিশ্রমি জনতা ঋতু পরিবর্তনসহ করোনাকে মোকাবেলা করে নানা ধর্মীয় উৎসবে তারা মাতোয়ারা রয়েছে।

দেশবাসী সার্স, মার্স, অ্যানথ্রাক্স, হুপিংকাশ, যক্ষা, জলাতঙ্ক, কুষ্ঠ, এইডস, প্লেগ ইত্যাদির মোকাবেলার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সাথে সহাবস্থান করে কোভিড-১৯ কে মোকাবেলা করে চলেছে। এর পরে আসছে “হান্টা” নামের আরেকটা নতুন বালাই যা নাকি এর চাইতেও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

করোনার দাপটে যখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত আমেরিকা, তখন নতুন বিপদে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এই রাষ্ট্র। দেশটিতে এবার ছড়িয়ে পড়েছে “সালমোনেলা” ব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়া।

এরই মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ৩১টি রাষ্ট্রে। অসুস্থ হয়েছে কমপক্ষে ৪০০ মানুষ। শুধু আমেরিকা নয়, একই সঙ্গে কানাডা থেকেও এ ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে।

সিএনএন-এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, অসুস্থতার জেরে কমপক্ষে ৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। মনে করা হচ্ছে, কোনও সংস্থার সরবরাহ করা লাল পিয়াজ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা।

ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকার ৩১টি রাজ্যে সালমোনেলা বিষের প্রভাব দেখা গিয়েছে। এই ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে থমসন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি সংস্থার পিয়াজ সরবরাহকে দায়ী করা হচ্ছে।

পৃথিবীর এই বিনাশি ধারাকে দায়ী করা যায় প্রকৃতি এ জলবায়ুর পরিবর্তন কে। সেই জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তনই ঘটতে পারে সকল জীব ও প্রাণের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। বন উজার বন্ধ করণ, উষ্ণায়ন বন্ধে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হওয়ার সকল পদ্ধিতির সঙ্কচোনের মাঝ দিয়ে,পাশাপাশি নদীনালা, সাগর মহাসাগর ও ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষার মাধ্যমে।

আমরা বাংলাদেশীরা কোন পথে হাটছি? আমরা সকল কিছুকেই বাণিজ্যকরণের মাঝ দিয়ে লুটপাটে ব্যস্ত আছি। জনতা হয়েছে পাগল। রাজনদের তেল দিতে আছে মশগুল। রাজনদের বাঁচতে হবে, জনতাকে বাঁচাতে হবে, রাষ্ট্রটাকে রক্ষা করতে হবে, এমন নীতি ও ধারায় আমরা আছি এমনটা মনে হচ্ছেনা। জয়বাংলা।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
তারিখ- ০৩ আগষ্ট, ২০২০ খৃষ্টাব্দ