যুবলীগ নেতা গ্রেফতারের প্রতিবাদে বেলকুচিতে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর: সড়কে অনির্দিষ্ট কালের বাস, মিনিবাস ধর্মঘট চলছে

চন্দন কুমার আচার্য, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার পৌর মেয়রের দায়ের করা মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতারের প্রতিবাদে নেতাকর্মীদের বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় বেলকুচি-সিরাজগঞ্জ সড়কে সিরাজগঞ্জ বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘটের ডাকা দিয়েছে। বৃহস্প্রতিবার বিকালে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা ও ছাত্রলীগের উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক এস.এম.ওমর ফারুক সরকারকে ডিবি পুলিশ গ্রেফারের পর তাদের সমর্থকরা উপজেলা সদরের রাস্তাঘাটে রেড়িকেড দিয়ে ২০/২২ টি সিএনজি অটোরিক্সা ও বাস-ট্রাক ভাংচুর ও হেমা পরিবহন বাসে অগ্নি সংযোগ করে। পরে রাতে এ ভাংচুরের ঘটনায় বাসের মালিক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে ও বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবী করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘটের ডাকা দেয়। আবারো বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে উপজেলা সদরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা। জেলা সদর ও ঢাকার সাথে সংযুক্ত প্রধান এই রাস্তা। আর হটাৎ করে বাস বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।
গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তদন্ত রওশন আলী জানান, বেলকুচি পৌরসভা কার্যালয়ে হামলা, সরকারী কাজে বাধা ও মেয়রকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় পৌর মেয়র মেয়র আশানুর বিশ্বাসের দায়েরকৃত দ্রুত বিচার আইনে মামলায় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা এবং ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এস.এম.ওমর ফারুক সরকারকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তিতে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রেজা ও ফারুকের সমর্থকরা উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়কে সিএনজি অটোরিক্সা ও বাস-ট্রাক ভাংচুর করে। এসময় হেমা পরিবহন বাসে অগ্নি সংযোগ করা হয়।
বাস ভাংচুরের ঘটনার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতি সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর রুটে বাস, মিনিবাস চলাচল বন্ধ ঘোষনা করে বৃহসপ্রতি রাতে বাস, মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতি জরুরী সভায় ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে শুক্রবার সকাল থেকে এই সড়কে বাস চলাচল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করে। যে পর্যন্ত দোষীদের শাস্তির আওতায় না আনা হবে সে পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
এদিকে হেমা পরিবহনের মালিক হাসানুর ইসলাম বাদী হয়ে ২জন নামীয় এবং ২৫জন অজ্ঞাত উল্লেখ করে বেলকুচি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজার নেতৃত্বে কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সভা পৌরসভায় সভা চলাকালীন সময়ে সভাকক্ষের দরজা লাথি মেরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে মেয়রের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মেয়রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে গত ২৪ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার আইনের ধারা সংযোজন করে মেয়র সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন রাতে বেলকুচি থানায় রেকর্ডকৃত চাঁদাবাজির মামলার সাথে দ্রুত বিচারের ধারা সংযোজন করে তদন্তভার বেলকুচি থানা পুলিশের পরিবর্তে ডিবি পুলিশে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক। দ্রুত বিচার আইনের ধারা সংযোজনের রেকর্ডকৃত মামলায় বেলকুচি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা, যুগ্ন আহবায়ক এস.এম.ওমর ফারুক সরকার ও জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাময়িক বহিস্কৃত সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেনসহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামী করা হয়। এ মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবী এ মামলাটি আসলে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার একটি কৌশল। বেলকুচি আওয়ামীলীগে দীর্ঘদিন থেকেই দুটি পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে রয়েছে। যার কারনেই রেজাকে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র। এই রেজাই একটি সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি পক্ষের হয়ে কাজ করতেন। কিন্তু বর্তমানে রেজা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কর্মী হয়ে কাজ করার কারনেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে বলে দাবী নেতাকর্মীদের।
যুবলীগের আহবায়ক রেজা ও ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।