যুগান্তরের সাংবাদিক জাহান তেলচোর সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর আহত

“শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের একটি ঘাট দিয়ে অবৈধ ৬ লাখ লিটার ডিজেল তেল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়। প্রতি লিটার ডিজেল ৬২ টাকা ৮১ পয়সা হিসাবে এর বাজার মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ১৫ জুলাই শনিবার দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদের ফলোআপ করতে এ দিন তিনি সেখানে গিয়ে এ হামলার শিকার হন”

নিজস্ব প্রদিবেদক : দৈনিক যুগান্তর ও বিজয় টিভির শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানকে আজ রোববার দুপুরে বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে শ্রমিক নামধারী একদল তেলচোর সন্ত্রাসী বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি পেশাগত দায়ীত্ব পালনে সেখানে যান। আগে থেকে সেখানে ওৎপেতে থাকা তেলচোরের দল তাকে দেখেই অতির্কিতে হামলা চালায়। এ সময় তিনি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে যমুনা ওয়েল ডিপো অফিস কক্ষে ঢুকেও ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে অফিস কক্ষে ঢুকেই বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি তেলচোর সন্ত্রাসীদের বেধরক মারপিটে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

জানা গেছে, গতকাল ১৫ জুলাই শনিবার ‘বাঘাবাড়ি নৌবন্দর, ছয় লাখ লিটার অবৈধ ডিজেল কালোবাজারে বিক্রি’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্ত পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদের ফলোআপ করার জন্য গতকাল রোববার দুপুর ১২ টার দিকে যুগান্তর ও বিজয় টিভির সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান সহ ৩ সাংবাদিক বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোতে যায়। অপর সাংবাদিকরা হলেন, কালেরকন্ঠের আতাউর রহমান পিন্টু ও সকালের খবরের স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় সিকিউরিটিদের সামনেই ডিপো অভ্যান্তরের ভিতরেই ট্যাংকলরী থেকে শ্রমিকরা তেল চুরি করছিল। এই তেল চুরির দৃশ্য সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান এ সময় ক্যামেরায় ধারণ করেন। এতে তারা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হয়। তিনি দ্রুত যমুনা ওয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন।

এ সময় যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার অফিসে না থাকায় মোবাইলে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিসে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন। সাংবাদিকরা তখন সেখানে অপেক্ষা না করে বাঘাবাড়ি পোর্ট অফিসারের স্বাক্ষাতকার গ্রহণ করে চলে যান। দুপুর ২টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আবারও তারা যমুনা ওয়েল ডিপোতে যান। সেখানে প্রথমে ডিপোর সিকিউরিটিরা ভিড়তে ঢুকতে বাঁধা দেয়। এ বাঁধা পেরিয়ে ভিতরে যাওয়ার সময় ওই তেল চোরের দল সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানের উপর হামলা চালায়। তিনি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে যমুনা ওয়েল ডিপোর অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে পড়েন। তেলচোর সন্ত্রাসীরা সেখানেই তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি তাদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেও শেষ রক্ষা পায়নি। তারা সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করতে করতে বাইরে টেনে হিচড়ে এনে বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় ওই সন্ত্রাসী হামলাকারীরা সাংবাদিক জাহানের পড়নের প্যান্ট শার্ট ছিড়ে তাকে অর্ধ বিবস্ত্র করে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তবে প্যান্টের পকেটে থাকা কিছু টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অফিস ও আশপাশের লোকজনসহ তার সাথে থাকা অপর দুই সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল মজিদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে রক্ষা করে যায়।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়াকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধারে সাহায্য চাওয়া হলে এসআই কমল দেবনাথ একদল পুলিশ নিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দেয়। পরে গুরুতর আহত সাংবাদিক জাহানকে শাহজাদপুরের পোতাজিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে বাঘাবাড়ির উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরীর সভাপাতি শাহজাহান সিরাজকে জানানো হলে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে নিউজ ও মামলা না করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ ঘটনায় শাহজাদপুরে কর্মরত সাংবাদিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন। এ ছাড়া তারা অবিলম্বে দোষিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টিান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।