যমুনা ‘গিলে খাচ্ছে’ শত শত ঘর, ছোট হচ্ছে স্থলভাগ

যমুনা

ভয়াবহ নদী ভাঙনের মুখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিস্তৃর্ণ জনপদ। গত এক সপ্তাহে যমুনার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। বাদ পড়েনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীতীরের বাসিন্দাদের। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙন রোধে সাতশ’ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

আম্পানের পর পানি কমলেও থামেনি ভাঙন। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নদী গ্রাস করে নিচ্ছে জমি, ছোট হচ্ছে স্থলভাগের মানচিত্র।

বর্ষা মৌসুমের আগেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে যমুনা নদী। গত কয়েকদিনে, তীব্র ভাঙনে বিলীন হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাক্ষ্মণগ্রাম, আরকান্দি, বাওইখোলা ও আশপাশের গ্রামের কয়েকশ’ ঘর। আতঙ্কে অনেকে সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি। করোনার থাবায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলো এবার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে চরম বিপাকে। যমুনার কড়াল গ্রাসে কমছে না দুর্দশা।

একজন বলেন, নদীতে আমার সব গেছে। এখন আমার কিছুই নেই।

আরেকজন বলেন, সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন যেনো নদী সব কেড়ে নেয়।

বসতবাড়ি ছাড়াও বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালাসহ বিস্তৃর্ণ জনপদ। ভেঙে গেছে স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাও। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে চরম আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ।

একজন বলেন, নদীর তীরটা যেনো ভালো করে বেঁধে দেয়।

এ অবস্থায় স্থায়ী বাঁধসহ নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সাড়ে ৬ কিলোমিটার জায়গায় একটা স্থায়ী কাজ করার জন্য ৭শ’ কোটি টাকার একটা প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে আছে। সেটি অনুমোদন হলে স্থায়ী কাজ হবে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলার দেড় কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে যমুনা নদীতে। হুমকিতে আরও অন্তত দশটি গ্রামের বিস্তৃর্ণ জনপদ।

সূত্রঃ সময় নিউজ টিভি