যমুনায় ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা মা মাছ ; মাছের বংশবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ!

নিজস্ব সংবাদদাতা: উপজেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমানে ধরা পড়ছে ডিমওয়ালা মা মাছ। ফলে মাছের বংশবৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ মহল। প্রজনন মৌসুমে যমুনায় জেলেদের ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন বন্ধ করা না গেলে যমুনায় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন প্রকারের মাছের আকাল দেখা দেবে। এদিকে ডিমওয়ালা মা মাছের সাথে পাউনে (মাটির গর্তে) ডিম ছাড়া মা মাছও জেলেদের জালে ধরা পড়ায় খাদ্যাভাবে পোনামাছের জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। প্রজনন মৌসুমে যমুনায় ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ নিধনে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে স্থানীয় জেলেরা নির্বিচারে এসব মা নিধনের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। বিজ্ঞ মহলের মতে,‘দেশের বৃহৎ যমুনা নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের যমুনায় অভিযান চালিয়ে জেলেদের মা মাছ ও ডিম ছাড়া মা মাছ এবং পোনা নিধন বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থ্য অবিলম্বে গ্রহন অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।’ যমুনা তীরবর্তী এলাকাবাসী ও জেলেরা জানায়, গত ক’দিন হলো যমুনা নদীর পানি বৃৃদ্ধির সাথে সাথে শাহজাদপুরের যমুনা নদী তীরবর্তী কৈজুরী, জামিরতা, কাশিপুর, বেনুটিয়া, সোনাতুনীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ডিমওয়ালা মা মাছের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে দেশীয় প্রজাতির বড় বড় আকৃতির মা মাছ। এসব এলাকায় প্রতি দিনই ডিমওয়ালা রুই, আইড়, পাঙ্গাস, চিতল কাতলাসহ বড় বড় দেশীয় প্রজাতির ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ছে যা বিভিন্ন হাটবাজারে হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা আরও জানায়, আইড় মাছ পাউনে (মাটির গর্তে) পোনা ছাড়ার পর ওইসব পোনা মা আইড় মাছের শরীরের লালা খেয়ে বেচে থাকে। ফলে আইড় মাছের শরীর কালচে আকার ধারণ করে। পরে ওইসব পোনা মাছ অন্য খাবার খাওয়া শুরু করলে মা আইড় মাছের শরীর লালচে আকার ধারণ করে। বর্তমানে যমুনায় বড় আকারের পাঙ্গাস, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ছে। এদিকে জেলেরা নির্বিচারে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা শিকার করায় মাছের বংশবৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ মহল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না।