যমুনায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার খুকনি ইউনিয়নের বাহ্মণগ্রাম সংলগ্ন এনায়েতপুর হাটখোলা সড়কে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসি আধা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছেন।

যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও মিথ্যা মামলায় এলাকাবাসিকে হয়রানির প্রতিবাদে তারা এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন, এনায়েতপুর থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি ফজলুল হক ডনু। এ কর্মসুচি চলাকালে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, এবিএম শামীম হক, খুকনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন ব্যাপারী, খুকনি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য সোহরাব আলী, এনায়েতপুর থানা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপাত সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মোন্নাফ, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহির উদ্দিন, থানা আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান কহি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, টানা ১০ বছর ধরে এনায়েতপুর থানা এলাকার যমুনার নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এর ফলে শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের বাহ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, ঘাটাবাড়ি, পাকুড়তলা গ্রাম সহ আশপাশের এলাকার অন্তত ৪ হাজার বাড়িঘর, আবাদী জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এ সব বাড়িঘরের মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তারপরেও বালুদস্যুদের এ অবৈধ বালু উত্তোলন থেমে নেই।

সিরাজগঞ্জ পাউবো ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই মহামারী করোনার মধ্যেও লাল মিয়া গং তাদের বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যহত রেখেছে। এর প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসিদের হত্যার হুমকি সহ ষড়যন্ত্র মুলক মিথ্যা মামলা দিয়ে বালুদস্যুরা তাদের হয়রানি করছে। তারা এ অবৈধ বালু লুট বন্ধ সহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান। তা না হলে অচিরেই তারা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসুচি পালন করবে বলে ঘোষণা দেন। এ মানববন্ধন কর্মসুচিতে ভাঙ্গণকবলিত ৫ গ্রামের ২ শতাধিক মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।