লোকসানের মুখে শাহজাদপুরের চরের বোনা আমন ধান, বাদাম ও তিল চাষিরা


যমুনার চরাঞ্চলে সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও প্রবল বর্ষণে যমুনা, করতোয়া ও বড়াল নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, গালা ও জালালপুর এ ৩ ইউনিয়নের যমুনার চরে নিন্মাঞ্চলের রোপণ করা সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির বাদাম, তিল, বোনা আমন ধান, শাক-সবজিসহ উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। নিমিষেই এসব ফসল ডুবে যাওয়ায় ফলে চরাঞ্চলের কৃষকেরা অপূরনীয় লোকসানের তোপের মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে শাহজাদপুর উপজেলায় ২২ হাজার ৮’শ ৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ইতিমধ্যে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ। কিন্তু চরের নিম্নাঞ্চলের কাঁচা, আধা-পাঁকা জামিতে রোপিত বোনা আমন ধান, বাদাম, তিল, সবজিসহ উঠতি ফসলের ক্ষেত হঠাৎ যমুনার বানের বানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের বুকভরা আশা বানের পানিতে হতাশায় পরিণত হয়েছে। একদিকে দ্রুত পানি বৃদ্ধি ও অন্যদিকে শ্রমিক না পাওয়ায় কাঁচা, অপরিণত ফসলও কেটে ঘরে তুলতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এসব এলাকার কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও যমুনার চরাঞ্চলবাসী সূত্রে জানা গেছে, যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে ইতিমধ্যেই উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল সোনাতনী ইউনিয়নের সোনাতনী, চামতারা, ছোট চামতারা, বানতিয়ার, বানিয়া সিংগুলী, বাঙালা, ভাটদিঘুলিয়া, শ্রীপুর চরের প্রায় ২’শ বিঘা বোনা আমন ধান, বাদাম ও তিল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। গালা ইউনিয়নের রতনদিয়ার, মোহনপুর, শিমুলকাদি চরের প্রায় ৮০ বিঘা বোনা আমন, বাদাম ও তিল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, পাকুড়তলা, ঘাটাবাড়ী এলাকায় রোপিত প্রায় ৭০ বিঘা জমির বোনা আমন ও তিল, সবজিসহ উঠতি ফসল তলিয়ে গেছে। এতে চরাঞ্চলের কৃষকদের অবর্ণনীয় সাধিত হওয়ায় কৃষকেরা বুক ফাঁটা আর্তনাদে হা-হুতাশ করছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আব্দুস সালাম জানান, ‘যমুনায় অকষ্মাৎ পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার সোনাতনী,গালা ও জালালপুর ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চল অধ্যুষিত নিম্নাঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩’শ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে।