মেয়র মিরুর মুক্তির দাবিতে পোস্টার, নেপথ্যে কারা

শামছুর রহমান শিশির : সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরুর মুক্তির দাবিতে রঙিন পোস্টার সাঁটানো হয়েছে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ কোর্ট চত্বর এলাকায়। পোস্টারে মিরু মুক্তি পরিষদ নাম ব্যবহার করলেও এই পরিষদের নেপথ্যে কারা রয়েছেন এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন শিমুলের পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমে কর্মরত কর্মীরা। এদিকে, সিরাজগঞ্জসহ শাহজাদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে লাগানো হয়েছে মেয়র মিরুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পোস্টার। চার রঙের পোস্টারের ওপরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি রয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক শিমুল হত্যার ব্যাপারে খোদ আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সাংবাদিক-আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ-বিএনপি ও নিহতের স্বজনরাসহ শাহজাদপুরের হাজারও জনতা এখন মিরু ও তার ভাই মিন্টু-পিন্টুর ফাঁসির দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু হঠাৎ কারা নেপথ্যে থেকে এই রঙিন পোস্টার লাগাচ্ছে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জসহ শাহজাদপুরবাসীর মধ্যে। এদিকে, সাংবাদিক শিমুলের মাথায় বিদ্ধ গুলির সঙ্গে মেয়রের শর্টগানের গুলির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার সযোগীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠছে শাহজাদপুরবাসী। শিমুল হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে পোস্টার ও ব্যানারে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ জেলায় ছেয়ে গেলেও হঠাৎ মিরুর মুক্তির দাবিতে রঙিন পোস্টার দেখে অনেকেই হতভম্ভ হয়েছেন। সেই সঙ্গে তাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মিরুর মুক্তির দাবিতে সাঁটানো পোস্টারের নেপথ্যে কারা ভূমিকা পালন করছেন তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। জানা যায়, গত মার্চ মাসে সাংবাদিক শিমুলের মাথার ভেতর থেকে পাওয়া সিসার লেট বল, জব্দকৃত মেয়রের লাইসেন্সকৃত শর্টগান, কার্তুজের লেট বল ও কার্তুজের খোসার ব্যালিস্টিক রিপোর্ট ডাকযোগে সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় সিআইডির ব্যালিস্টিক বিভাগ। সিআইডির পাঠানোর রিপোর্টের সঙ্গে মিরুর শর্টগানের গুলির সঙ্গে মিল পাওয়ায় অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে আবারও উত্তাল হয়েছে শাহজাদপুরসহ সিরাজগঞ্জ জেলাবাসী। এ বিষয়ে গত ২১ মার্চ সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, মেয়র মিরুর লাইসেন্সকৃত শর্টগানে ব্যবহৃত লেট বলের সঙ্গে শিমুলের মাথায় বিদ্ধ লেট বলের মিল পেয়েছে সিআইডি।তবে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার সময় অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল। এ কারণে গত ৭ মার্চ শাহজাদপুর পৌর এলাকার মনিরামপুর মহল্লায় মেয়র মিরুর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার মিন্টুর ব্যবহৃত পাইপগান পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।তিনি আরও জানান, সাংবাদিক শিমুল হত্যার ঘটনায় মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে মেয়র গ্রুপ ও ছাত্রলীগের একাংশের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক শিমুল।পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মেয়র মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।