মেইন গেটে তালা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলছে ক্লাস

মেইন গেটে তালা দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলছে ক্লাস

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে চালানো হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এখানে শিশু-কিশোরদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয়াবহ করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কোমলমতি শিশু-কিশোররা।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পরানপুর এলাকায় ‘অন্যরকম বিদ্যানিকেতন’ নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (০৭ জুন) সকালে সরেজমিনে ওই বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকে তালা ঝোলানো রয়েছে। মূল ফটকের সঙ্গে ছোট গেটটি সামান্য খোলা থাকলেও বিদ্যালয়টির মাঠ ও বহিরাঙ্গন থেকে পাঠদানের কোনো আলামত বোঝা যাচ্ছিল না। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একজন শিক্ষার্থী ছোট গেটটি দিয়ে বেরিয়ে আসে।

তখন ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানায়, স্কুলের ভেতরে ক্লাস চলছে। এরপর ভেতরে ঢুকে দেখা যায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীকে গোপনে পাঠদান করছেন ওই বিদ্যালয়টির পরিচালক ইয়াছিন আলীসহ আরও দুই শিক্ষক।

পাঠদানের সময় সামাজিক দূরুত্ব তো দূরের কথা গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কারও মুখে মাস্কও নেই।

ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনার শুরু থেকেই এখানে ক্লাস চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বই স্কুলেই রাখা আছে। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা খালি হাতে বিদ্যালয়ে ঢোকে। পাঠদান শেষে আবার খালি হাতেই বের হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের জন্যও জোর তাগাদা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

এ সময় কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আশরাফ আলীর সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে কোনো লাভ নেই। প্রশাসন এখানে কিছুই করতে পারবে না।

বিদ্যালয়টির পরিচালক ইয়াছিন আলী জানান, আমাদের এলাকায় তো কোন করোনা রোগী নেই। শিক্ষার্থীরা এখানে আসলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও নাই। হাট-বাজার সবকিছুই চলছে, স্কুল বন্ধ রেখে কি লাভ।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বিদ্যালয়টির ব্যাপারে এর আগেও এমন তথ্য পেয়েছিলাম। তখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন জেএসসি ফরম পূরণ করতে শিক্ষার্থীরা এসেছিল। এখনও যদি সেখানে ক্লাস চলমান থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।