অর্থ-বাণিজ্যশাহজাদপুর

জীবীকা সংকট পাশে নেই কেউ


মৃৎশিল্পীদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে

করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকাল, বন্যা ও বিভিন্ন ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি তৈজসপত্রের কু-প্রভাবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প পড়েছে চরম সংকটে! মাটির তৈরি জিনিসপত্রের বেচাবিক্রি না হওয়ায় বর্তমানে উপজেলার শতশত মৃৎশিল্পীদের জীবন চলছে ধুঁকে ধুকে। প্রাচীনকাল থেকে বংশপরম্পরায় চলে আসা আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের ধারক-বাহক শাহজাদপুরের শতশত এসব মৃৎশিল্পীদের ভাগ্যাকাশে বিরাজ করছে কালো মেঘের ঘটঘটা! তাদের আয় রোজগার প্রায় শূণ্যের কোটায় নেমে আসায় পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করছে তারা। দেখার কেউ নেই!
সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর পৌর এলাকার পালপাড়া মহল্লা সরেজমিন পরিদর্শণকালে গোপাল চন্দ্র পাল (৮১), শংকর পাল (৫২), সুজিত পাল, রণজিত পাল, সুভাষ পালসহ বেশ কয়েকজন মৃৎশিল্পী জানান, প্লাষ্টিক, এ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন ধাতব শিল্পের আগ্রাসনে এমনিতেই মাটির তৈরি জিনিসপত্রের কদর একেবারেই কমেছে। তার পরেও ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ এর মতো মাটির তৈরি হাড়ি,পাতিল, স্যানেটারি ল্যাট্রিনের চাক, পাটা, খাদা, কোলা, সড়া, ব্যাংক, ঝাঝুর ছাকনা, চারি, কাটাখোলা, ভাপাপিঠার খোলা, সাতখোলা, পাঁচখোলা, তিনখোলাসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র যাও বা বিক্রি হতো; করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ও বন্যাজণিত কারণে তাও থমকে দাঁড়িয়েছে! এটেল মাটি ও জ¦ালানির দাম বৃদ্ধি পেলেও তাদের তৈরি মাটির জিনিসপত্র স্থানীয় হাটবাজারে, বাড়িতে বাড়িতে বিক্রি না হওয়ায় পালপাড়া মহল্লার ২০ পাল পরিবারসহ উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের ২ মহল্লার ৫০ পরিবার, নরিনা ইউনিয়নের ৩ মহল্লার ৩০ পরিবার, খুকনী ইউনিয়নের ২৫ পরিবার ও পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতার ১০ পাল পরিবারের শতশত মৃৎশিল্পীদের জীবন জীবীকার প্রশ্নে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকে ইতিমধ্যেই ঋণপানে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে লোকসানের ভার সইতে না পেরে পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা আরও জানান, এক ট্রাক এঁটেল মাটি ১৫’শ টাকায় ও জ¦ালানি কাঠের গুঁড়া ২’শ টাকায় বস্তাপ্রতি কিনতে হচ্ছে । বৃষ্টিপাতে কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কিন্তু তৈরিকৃত মাটির জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ও চাহিদা একেবারেই কমে যাওয়ায় বর্তমানে শতশত মৃৎশিল্পীরা চোখেমুখে রীতিমতো সর্ষের ফুল দেখছে। জীবীকা সংকট লাঘবে কেউ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে না দেয়ায় ওদের মতো চির অবহেলিত, চির পতিত, চির অপাংক্তেয় ও ভাগ্যবিড়ম্বিত শতশত মৃৎশিল্পীদের বিচারের বাণী নিরবে নিভৃতে কাঁদছে।

Related Articles

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: