মাদ্রাসায় ভর্তির কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আতিক

বাবা পেশায় শ্যালো মেশিনের মেকার। মা গৃহিনী। বাড়িতে আছে ছোট একটি বোন। গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের কথা না শুনেই এক প্রকার জোর করে ১৩০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আতিক। বাড়িতে জানিয়েছিল, সে রাজশাহীর একটি বড় মাদ্রাসায় ভর্তি হবে। পরে মোবাইলে মাকে জানায় সে রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে।

আতিক শুক্রবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের শেরখালি উকিলপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযান গ্রেপ্তার হওয়া ৪ জনের একজন। তার বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার শশরা শাহাপাড়া গ্রামে।

আতিকের পুরো নাম আতিউর রহমান আতিক (১৯)। গ্রামের মানিক হোসেনের ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে আতিক বড়। সে গত বছর উপজেলার সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের কাশিপুর ডাঙ্গাপাড়া মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এক প্রকার জোর করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে। পরে ফোনে জানায়, সে রাজশাহীতে।

এ বিষয়ে জানতে আতিকের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মা ছোট বোনকে পাওয়া যায়। বাবা মানিক হোসেন পেশায় শ্যালো মেশিনের মেকার। বাড়িতে দুটি টিনের ঘর। আরসিসি পিলার দিয়ে চলছে নির্মাণের কাজ।

ছেলে সম্পর্কে জানতে চাইলে মা আসমিন আরা (৪০) জানান, প্রথমবার সে দাখিলে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও গতবার পাশ করে। তবে তার চলাফেরায় একটু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে তারা। কারো সঙ্গে তেমন মেলামেশা করত না। প্রায় সময় ঘরে থাকত ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। এরপর সে রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য টাকা চাইতো। কিন্তু একমাত্র ছেলে বাইরে গিয়ে থাকুক এটা মা চাননি। কিন্তু ১৩০ টাকা নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর এক প্রকার জোর করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে জানায় রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হবার জন্য রাজশাহীতে অবস্থান করছে। কিন্তু সে কিভাবে চলছে তা তারা জানতেন না। মোবাইলে কল করলে অনেক সময় তাকে পাওয়া যেতনা। পরে সে জানাতো মাদ্রায় কোচিং এ আছে। সর্বশেষ কথা হয় বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর আর কথা হয়নি।

ছেলে ধরা পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তবে টিভিতে জঙ্গী ধরা পড়ার খবর শুনেছেন।

ছেলে কথায় যায় কি করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মা আসমিন আরা বলেন, মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর ইব্রাহীম খলিলুলতাহ তাকে প্রায় এসে বাসা থেকে নিয়ে যেত। অনেক সময় অন্য কাউকে পাঠিয়ে নিয়ে যেত পাগড়ি পরিয়ে দেয়ার জন্য।

আতিকের বোন নুরে জান্নাত জানায়, তার ভাই মোবাইল ফোনে ৩টি সিম ব্যবহার করত। বর্তমানে তার তিনটি সিমই বন্ধ। ভাইয়ের চলাফেরা নিয়ে তারও সন্দেহের কথা জানায় নুরে জান্নাত।

বাবা মানিক হোসেন পড়াশুনা জানেন না। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ফোনে আতিকের সঙ্গে তার কথা হয়। ফোনে শুধু টাকা চায় আতিক। জানিয়েছে রাজশাহীতে মাদ্রাসায় ভর্তি হবে।

এ ব্যপারে শনিবার দুপুরে মিনহাজুদ দাওয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর ইব্রাহীম খলিলুল্লার সঙ্গে তার প্রতিষ্ঠানে দেখা করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আতিউর রহমান আতিক তার ছাত্র ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি লেবানন থেকে পড়াশুনা করে এসেছি। আমি সব সময় জঙ্গিবিরোধী। আমার সঙ্গে আতিকের জঙ্গি সম্পৃক্ততা কোনোভাবেই মেলেনা।’

সূত্র- সমকাল