মাদক এখন সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রামাঞ্চলে

চন্দন কুমার আচার্যঃ সীমান্ত এলাকা গুলোতে মাদকের রমরমা আঁকড়াখানা। ডাক নাম ফেন্সি, ফান্টু, ৬ ইঞ্চি যাই হোক না কেন পুরো নাম ফেন্সিডিল। আরেক নেশার গুটি, আড়াই, তিন, আসল নাম ইয়াবা । শুকনা আসল গাঁজা, ভেজা আসল মদ। আইনের চোখে মরণ নেশা হলেও মাদকসেবীদের কাছে যেন ফিলিংসটাই আলাদা। তাই তো হাজারও যুবক এ মরণ নেশার প্রেমে হয়ে পড়েছে দিশেহারা। সীমান্ত এলাকা থেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলেও মরণ-নাশক মাদকের ছোবলে আসক্ত হয়ে ঝড়ে পড়ছে হাজারো তরুণের স্বপ্ন। ফলে অকালেই ঝড়ে পড়ছে তাদের মূল্যবান জীবন। শহর এবং উপশহরের বিভিন্ন যায়গায় যত্রতত্র ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের মত মহামারী ব্যাবসা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাদকের রমরমা আঁকড়াখানা থেকে আমদানী করা হচ্ছে মাদক। আমদানীর উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হচ্ছে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা যেমন, দিনাজপুর, রাজশাহী, চাঁপাই, সীমান্ত দিয়ে আমদানী হয় এসব মাদক দ্রব্য তারও অভিযোগ এবং নিয়মিত ভাবে মিডিয়ার জগতে দেখা ও শোনা যাচ্ছে। এতে এলাকার সাধারণ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ মরণ নেশায় ধাবিত হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবরা। বর্তমান সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের যুবকদের মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এমনকি খুন খারাপির মত নগন্য সব কর্মকান্ড। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, মাদকের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করাটা বর্তমান সময়ের দাবী। মাদকসেবীদের মরণ নেশার হাত থেকে রক্ষা করা মা বাবা সহ সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তে ঝড়ে যাচ্ছে মাদকসেবীদের মহা মূল্যবান জীবন। জীবনের গন্ডি শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে নানা রকম বাজে নেশায় আসক্ত হতে দেখা যাচ্ছে বর্তমান যুব সমাজের। আর দেশ হারাচ্ছে ভবিষ্যতের উজ্ঝল মশাল সুতরাং প্রতিটি মা বাবার উচিত তাদের সন্তানের সাথে বন্দুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা। মাদক নিয়ে থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একের পর এক মাদক বিরোধী র‌্যালী, মিটিং, বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মাধ্যমে এলাকার সচেতন নাগরিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও রোধ করা যাচ্ছে না মরণব্যাধি মাদককে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না মাদক ব্যাবসা। মাঝে মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও মাদক সহ বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যেমন গত রবিবার (২৬ নভেম্বর-২০১৭) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলকুচি থানা পুলিশ উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের খাসলক্ষিপুর গ্রামের আব্দুল কদ্দুছ প্রামানিকের সোহেল রানা (৩০) নামের গাঁজা ব্যবসায়ীকে ধুলেরচর গ্রাম থেকে ১ কেজি গাঁজা সহ গ্রেফতার করে। সোমবার (২৭ নভেম্বর-২০১৭))বেলকুচি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজাসহ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও বলেন, এলাকায় দির্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে। উক্ত গাঁজা ব্যবসায়ীকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।